নগরীতে ভেজাল ও নকল পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও জেল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৬:৩৭ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর ভেজাল ও নকল পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে এক ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর লালদিঘিরপাড় হকার্স মার্কেটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়।
দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম শাহ জামাল উদ্দিন। তিনি জামাল এন্ড ব্রাদার্সের মালিক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নগরীর হকার্স মার্কেটের একটি ভবনের চারতলায় গোপনে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন করা হতো। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ‘ঘনচিনি’ নামক উপাদানের সাহায্যে এসব পণ্য তৈরি করা হতো, যা মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলে যৌন উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তিনটি দোকানকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেখানে জামাল এন্ড ব্রাদার্সে সোডিয়াম সাইক্লেমেট (ঘন চিনি) যদি উপস্থিতি পাওয়া যায়, অননুমোদিত যৌনবর্ধক ওষুধ নিজেই তৈরি করছিলেন, এগুলোর কোনো অনুমোদন নাই । ফুড সিরাপ নামে আরও একটা সিরাপ ব্যবহার করছেন, ইউনানি ওষুধ বলে ঘোষণা করতেছেন। এসব সহ নানা প্রতারণার অভিযোগে ওই দোকানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন শিশুখাদ্য বিক্রয় এবং অন্যান্য কোম্পানির ট্রেডমার্ক ও প্যাকেজিং নকল করে মানহীন পণ্য বাজারজাত করার অপরাধে ৫০ হাজার ও ৩০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আরিফ মুর্শেদ মিশু, সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাকিবুল আলম ও সিলেটের নিরাপদ খাদ্য অফিসার সৈয়দ সারফরাজ হোসেনের যৌথ নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের এডি জয়নাল আবেদীন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম।
সিলেটের নিরাপদ খাদ্য অফিসার সৈয়দ সারফরাজ হোসেন বলেন, এ ধরনের ক্ষতিকারক পদার্থ মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয় এবং এর ব্যবহারে ইতোমধ্যে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ডিসি স্যারের নির্দেশনা ছিল যে এরকম সোডিয়াম সাইক্লেমেট বা ঘন চিনির উপস্থিতি যদি পাওয়া যায়, তাদেরকে শুধু যেন জরিমানা না করা হয়, তাদেরকে যেন জেল দেওয়া হয়। তো ওই প্রেক্ষাপটেই কিন্তু আমরা আজকে এই জেল দেওয়ার প্রস্তুতিটা নিয়েছি। ভবিষ্যতেও এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।



