জন্মনিয়ন্ত্রণ কোন দিকে?
নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুর বেড়েছে কয়েকগুণ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ মার্চ ২০২৬, ৪:২৩:১১ অপরাহ্ন
আহমাদ সেলিম
বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে সিলেট নগরীর পথচারীদের প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। নিধনের মাধ্যমে নয়, ভ্যাকসিন ব্যবহার করে কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণের হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও সেটিও বন্ধ রয়েছে। ফলে কয়েক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুর।
একসময় সিটি কর্পোরেশন নিধনের মাধ্যমে বেওয়ারিশ কুকুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। কিন্তু মানবিক কারণে সেটি বন্ধ রেখে ভ্যাকসিন ব্যবহার করে কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণের নির্দেশ রয়েছে। তবে ভ্যাকসিনের অভাব থাকায় লাগামহীনভাবে বাড়ছে বেওয়ারিশ কুকুর।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গিয়ে দেখা গেছে, নগরজুড়ে আশঙ্কাজনকভাবে কুকুর বাড়ছে। বাসাবাড়ি, বিপণী বিতান, হাসপাতাল, প্রশাসন-সবখানে কুকুরের দলবদ্ধ বিচরণ। যত দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কুকুরের সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে উপদ্রব। একটি কুকুর তেড়ে এলে তার সঙ্গে আসে আরো ৪/৫ টা কুকুর। এ অবস্থা বেশ কয়েকবছর ধরে চলছে নগরজুড়ে।
শীতে কুকুরের প্রজণন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে শীত শেষে এখনো অনেক কুকুর বাচ্চা দিচ্ছে। একটি মা কুকুর পাঁচ থেকে সাতটি বাচ্চার জন্ম দিচ্ছে। ফলে নগরীতে কয়েকবছরে কুকুরের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী না হলে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে না।
পথচারীরা জানান, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নগরীতে চলা দায়। পথে দলবদ্ধ আগ্রাসী কুকুর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পথচারী। তটস্থ হয়েই চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে প্রতি নিয়তই কুকুরের তাড়া খেতে হবে পথচারীদের।
নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা শামীম জানান, সিলেট শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুকুর মনে হয় মাছুদিঘীরপাড়, জামতলা, দাড়িয়াপাড়া এলাকায়। সারাক্ষণ চোখে পড়ে, তাদের ছুটাছুটি। একা নয়, এক সাথে অনেকগুলো কুকুর বের হয়। এমন চিত্র মানুষের মনে ভয় জাগায়।’
কুকুরভীতি পুরো নগরজুড়ে। কুয়ারপাড় ঈঙ্গুলাল এলাকার বাসিন্দা রাসেল আহমদ আনিস বলেন, ‘এখন শীতে নয়, তবু সবসময় কুকুর থাকে সড়কে। মানুষ ভয়ে রাস্তা পরিবর্তন করে। অনেক সময় চলন্ত অবস্থায় থাকা মোটরসাইকেল, কার, রিকশা, সিএনজি অটোরিকশাকে তাড়া করে।’
মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা তরুণ সমাজসেবক রকি দেব বলেন, ‘কুকুর নিধন নয়, জন্মনিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।’
সিটি কর্পোরেশন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সূত্র জানিয়েছে, কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জলাতঙ্কের ঝুঁকিও বাড়ছে। ওইসব কুকুর নিয়ন্ত্রণ করা না হলে যেকোনো সময় জলাতঙ্ক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সিলেট পিএমএসি ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের ভেটেরিনারিয়ান এসএম রায়হানুল নবী বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে হলে ভ্যাক্সিন নয়, অপারেশনের মাধ্যমে করতে হয়। তবে সব কুকুর জলাতংক বহন করে না।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের নিউরো সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, রিকাবীবাজার পুরাতন মেডিকেল সরকারি কোয়ার্টার কলোনীতে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। সিটি কর্পোরেশনের ভেতর মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা আশা করবো কুকুর নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিড়াল-কুকুর পালনের শখ যেমন বেড়েছে, তেমনি রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নীরবতা উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
বেওয়ারিশ কুকুর আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ ভ্যাক্সিন আপাতত আমাদের কাছে নেই। সরকার থেকে দিলে আমরা কাজ শুরু করি। চেষ্টা করছি, দেখি ঢাকা থেকে আনানো যায় কি না।



