দুর্ভোগে ২ শতাধিক পরিবার
গোলাপগঞ্জে সরকারি জমি ও কালভার্ট দখল করে স্থাপনা নির্মাণ: পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১:৫৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে সরকারি জমি দখল এবং কালভার্ট ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এলাকার অন্তত ২ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আজ্জাদ আলী প্রভাব খাটিয়ে এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন।
আবেদনের তথ্য মতে, সুনামপুর বাজারের উত্তর পাশে সরকারি গোপাট এবং সুনামপুর-চন্দরপুর ব্রিজের সংযোগ সড়কের অধিগ্রহণকৃত জমি অবৈধভাবে দখল করে তিনি দোকানপাট নির্মাণ করছেন। সবচেয়ে সংকটের বিষয় হলো, ঢাকাদক্ষিণ-সুনামপুর-বিয়ানীবাজার রাস্তার পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ছিল। গোলাপগঞ্জে সরকারি জমি অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই কালভার্টে মাটি ভরাট করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন।
সুনামপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এই কালভার্টটি ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। এর চারপাশে অসংখ্য মানুষের বসতবাড়ি, মসজিদ ও কবরস্থান রয়েছে। কালভার্টটি বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে অন্তত ২০০টি পরিবার সরাসরি পানিবন্দী হয়ে পড়বে। একই সাথে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় এলাকার মসজিদ, কবরস্থান ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি বারবার জানানো হয়েছে। তবে দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না মেলায় এবার এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংবলিত আবেদন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়েছেন। তারা “সরকারি গোপাট ও কালভার্ট থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে দ্রুত পানি চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। অন্যদিকে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ বাঁধার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্রামবাসীর পক্ষে সুনামপুর গ্রামের বাসিন্দা সুনামপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুতওয়াল্লী তজমুল আলী বলেন, আমরা ১৫/২০ জন ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাত করে প্রতিকার চেয়েছি। আমরা অসহায়। এই বাধ অপসারণ না করলে আমাদের ২ শতাধিক পরিবারকে পানিতে ডুবে থাকতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমরা গ্রামবাসী আশাবাদী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে এসেছেন। তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র দেবনাথ জানান, তিনি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কালভার্ট এর মুখ ভরাটের প্রমাণ পেয়েছেন। তিনি সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরাসরি অবহিত করেছেন। আজ লিখিত প্রতিবেদন জমা দিবেন।




