কামাল বাজার মিরগাও মাদরাসার পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান
প্রকৃত মানুষ গড়তে হলে কুরআনের শিক্ষার দিকে ফিরে যেতে হবে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেছেন, শান্তির সমাজ গড়ার জন্য কুরআনি শিক্ষা ও সমাজব্যস্থার বিকল্প নেই। দেড় হাজার বছর আগে মহানবী (সা.) কুরআনি সমাজ কায়েম করে বিশ্ববাসীকে সেই চিত্র দেখিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত মানুষ তৈরি হলেও এখানে প্রকৃত মানুষ গড়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুষ ও দুনীতি। তাই মানুষ গড়তে হলে কুরআনি শিক্ষার দিকে ফিরে যেতে হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেটের কামাল বাজার এলাকার মিরগাও হযরত তালহা (রা.) ইসলামিয়া মাদরাসার হিফজ সম্পন্নকারী ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাওলানা বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি মাওলানা নওফল আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লাউয়াই ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রওনক আহমদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেটের হিফজুল কুরআন একাডেমির পরিচালক মুফতি আল আমিন, মিরগাও হযরত তালহা (রা.) ইসলামিয়া মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি আবুল কালাম, সাবেক মেম্বার পর্তুগাল প্রবাসী আবদুল হাছিব, মিরগাওয়ের লন্ডন প্রবাসী ইলিয়াস আলী, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সিরাজ মিয়া ও সহসভাপতি ফারুক মিয়া, কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান আলম, ইসলামিক ব্যাংক কর্মকর্তা মাওলানা আতিকুর রহমান আলাল।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোকাব্বির হোসেন, মাদরাসার কোষাধ্যক্ষ মওসুফ আহমদ, কমিটির সদস্য ফয়েজ আহমদ, সাবেক মেম্বার সাইস্তা মিয়া, রাউতের গাও মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলাম, লন্ডন প্রবাসী আমির আলী, কমিটির সদস্য লিলু মিয়া, বিশিষ্ট মুরব্বি মদরিস আলী, মাওলানা ফখরুল আমিন, সোহেল খান, প্রাক্তন ছাত্র হাফিজ ফরহাদ আহমদ, হাফিজ বদরুল ইসলাম, হাফিজ মারজান আহমদ, সাইদুর রহমান ও মাহফুজ আহমদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এ বছর মাদরাসা থেকে হফেজ হওয়া চার শিক্ষার্থীকে পাগড়ি প্রদান করা হয়। পাগড়ি প্রাপ্তরা হলেন মোহাম্মদ ইমামুল ইমলাম, মোহাম্মদ ইসমাইল আলী, মোহাম্মদ মুস্তাহাদ কামাল ও মো. শাহীনূর আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি ধন-সম্পদ নয়, কুরআনের জ্ঞানই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। হাদিসে এসেছে তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে সেই মানুষ, যে কুরআন শেখে ও শেখায়। সুতরাং কুরআনকে ধারন, কুরআনকে সম্মান ও কুরআনের পাখিদের খেদমত করার মাধ্যমে আমরা সম্মানিত হতে পারব।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, কুরআনের হাফেজরা আলোর দিশারি। আল্লাহ পাক তাদের অন্তরে কুরআনের প্রতিটি অক্ষর গেঁথে দিয়েছেন। তাদের আয়াত মুসল্লিদের মুগ্ধ করবে। তাদেরকে দেখে মানুষ কুরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হবে।
লাউয়াই ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রওনক আহমদ বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে মিরগাও হযরত তালহা (রা.) ইসলামিয়া মাদরাসা নীরবে কুরআনের জ্বালো প্রজ্জ্বলন করে আসছে। প্রতিবছর এ মাদরাসা থেকে হাফেজে কুরআনরা বের হচ্ছেন। তিনি বলেন, হিফজ সম্পন্ন করা একটি বড় নেয়ামত। এই হাফেজরা আমাদের সমাজে আলোর মশাল হিসেবে কাজ করবেন ইনশাআল্লাহ।



