কোরিয়ায় ২২৫ শিক্ষার্থীর অনিশ্চয়তা: আইনী লড়াইয়ে সিউল যাচ্ছেন হবিগঞ্জের সাইফুল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮:৩৩:৪২ অপরাহ্ন
দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২৫ জন শিক্ষার্থী। সেদেশের সিংইয়ংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি বাবদ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা জমা দিয়েও ভিসা না পাওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি দেউলিয়া ঘোষণা করায় এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা আদায়ে আইনি লড়াই করতে সিউল যাচ্ছেন হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৯৪ জন বাংলাদেশি, ২৮ জন নেপালি ও ৩ জন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জেরও দুই শিক্ষার্থী আছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, উচ্চশিক্ষার আশায় জমিজমা বন্ধক ও ঋণ নিয়ে টিউশন ফি জমা দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রশাসনিক কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় সবার ভিসার আবেদন নামঞ্জুর হয়।
অফার লেটারের শর্ত অনুযায়ী ভিসা না হলে ৯০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। উল্টো প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে এবং ‘উই কেয়ার এডুকেশন কনসালটেন্সি’র উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি পদেক্ষেপ নেওয়া হয়। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতে পাওনার আনুষ্ঠানিক দাবি (ক্লেইম) দাখিল করতে হবে।
এই বিষয়ে সুপ্রিম ল ফার্মের প্রধান অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের পক্ষে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরিয়ার আদালতে দাবি দাখিল করা গেলে আশা করছি শিক্ষার্থীরা তাদের পুরো টাকা ফেরত পাবেন।”
আজ ২৩ আগস্ট ঢাকা থেকে সিউলের উদ্দেশে রওনা হবেন অ্যাডভোকেট সাইফুল। সেখানে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে আদালতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক পাওনা আদায়ের মামলাটি পরিচালনা করবেন তিনি।



