ক্যাম্পাস থেকেও অবমুক্ত শিক্ষকরা
আন্দোলনের চতুর্থ দিনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩:১৩ অপরাহ্ন
টানা তিনদিন ক্যাম্পাসে আন্দোলন করার পর এবার রাজপথে নেমেছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বদলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বুধবার সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। আন্দোলনের কারণে বুধবারও কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে সোমবার রাতে প্রশাসনিক ভবন থেকে মুক্ত হওয়া শিক্ষকদের মানবিক কারণে মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেওয়া হয়েছে বলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
বুধবার বেলা ৩ টার দিকে নগরীর বন্দরবাজার এলাকার কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা। বেলা ৫ টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা এই অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, আগের কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় নাই। কিন্তু, সিদ্ধান্তের জন্য একটা প্রজ্ঞাপন হইছিল। ওইটাও উনারা বাস্তবায়ন করতেছে না। ওইটাও উনারা বানচাল করার চেষ্টা করতেছে। ওই জায়গাতেই উনাদের সাথে আমাদের সমস্যা। আমরা এইটা চাই দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। আমাদের এক দফা যে দাবি কারিগরি বিভাগ থেকে আমাদের মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের তদন্ত কমিটি যে সুপারিশ প্রণয়ন করছিল, এই সুপারিশে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি (আইটি সাস) করার। আমরা এটার বাস্তবায়ন চাচ্ছি।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা তিন দিন ব্যাপী ক্যাম্পাসে আন্দোলন করে আসছি কারিগরি হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। কিন্তু এখনো কোনো প্রকার সলিউশন আমাদেরকে দেওয়া হয়নি, আমরা জানি না। এ কারণে আজকে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মাজারুল ইসলাম খান বলেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কলেজ শাটডাউন থাকবে। পাশাপাশি আমাদের কর্মসূচিও চলবে।
কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
এর আগে গত রোববার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ৩৫ ঘণ্টা পর সোমবার রাত ১০টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকা অধ্যক্ষ, ১৪ শিক্ষকসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী মুক্তি পান। তবে শিক্ষকরা এখনো ক্যাম্পাস ছাড়তে পারেনি। পরে মঙ্গলবার রাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেও অবমুক্ত হন।
এর আগে গত সোমবার বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।



