বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-জনতা ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত রয়েছে- মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম
২৮ অক্টোবর স্মরণে সিলেটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৭:৫৮ অপরাহ্ন
ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডি ও ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডবের স্মরণ এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচারের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে জামায়াত কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে নগরীর বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, ২৮ অক্টোবর শুধু বাংলাদেশ নয়, সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি ভয়াল দিন। ২০০৬ সালের এই দিনে সিলেটের ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে লগি-বৈঠার হামলায় গুরুতর আহত হন তৎকালীন মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি ড. নূরুল ইসলাম বাবুল। হামলায় তাঁর মাথার খুলি ভেঙে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও এখনো কথা বলতে গিয়ে মাঝে মাঝে তাঁর কথা জড়িয়ে যায়। সেই বাবুল সিলেট নগরীর আগামী দিনের কাণ্ডারী। আসন্ন সিসিক নির্বাচনে বাবুলের রক্তে রঞ্জিত মাটির জনগণ তাঁকে মূল্যায়ন করবেন ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ জাতির ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ পেয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। নূরুল ইসলাম বাবুলসহ অসংখ্য গাজীর রক্ত ও শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে শহীদ ও গাজীদের মিছিল আরও দীর্ঘ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জাতির প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রত্যাশা ক্রমেই ধূলিসাৎ হচ্ছে। তারা জুলাই সনদ ও সংস্কারকে উপেক্ষা করে ফের একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামীলীগের লগি-বৈঠার নৃশংস তাণ্ডবে গুরুতর আহত তৎকালীন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, জামায়াত নেতা শামীম আহমদ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু প্রমূখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, সেদিন সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কর্মসূচি ছিল। সকাল ৯টায় সভাস্থল পরিদর্শনে যান তৎকালীন মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুলসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এর আগে সকাল ৮টা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দক্ষিণ সুরমায় জড়ো হতে থাকেন। লগি-বৈঠাসহ সশস্ত্র অবস্থায় তাঁরা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। পরে কীনব্রিজ পার হয়ে ব্রিজের নিচের সৌন্দর্যবর্ধন স্থাপনা ও সার্কিট হাউসে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকা নূরুল ইসলাম বাবুলসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। হামলায় বাবুলের মাথার খুলি ভেঙে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ছাত্র-জনতা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সে সময় মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে বোরকা পরে পালিয়ে যান বলেও তিনি দাবি করেন।



