শীঘ্রই শুরু হবে উচ্ছেদ অভিযান
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সুনামগঞ্জের ৭ খাল ফের দখলের কবলে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ জুলাই ২০২৫, ৩:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ থেকে : আদালতের নির্দেশনায় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জ শহরের ৭টি খাল দখলমুক্ত করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফের দখলের কবলে পড়েছে উদ্ধার হওয়া খালগুলো। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে উচ্ছেদকৃত খাল দখল হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথ পালন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
এদিকে, পৌর প্রশাসন জানিয়েছে খাল রক্ষণাবেক্ষণে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না থাকায় অসম্পূর্ণ ছিলো খাল উদ্ধার কার্যক্রম। তবে শীঘ্রই খালগুলো উদ্ধারে অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, কামালখাল, বলাইখাল, তেঘরিয়া খাল, বড়পাড়া খাল ও নলুয়াখালি খাল ছাড়াও সুনামগঞ্জ শহরে একসময় ধোপাখালি খাল ও গাবরখালি খাল নামে আরও দুইটি বড় খালের অস্তিত্ব ছিলো। এসব খালের অনেকাংশই বেদখল হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসন ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার পাঁচ খাল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বেশ কিছুদিনের অভিযানে খামার খাল, তেঘরিয়া খাল, বড়পাড়া খালের অন্তত দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় খাল উদ্ধার হলেও রক্ষণাবেক্ষণের কোনে উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে পূর্বের রূপে ফিরে যায় খালগুলো। গতকাল শনিবার শহরের খামারখাল ও তেঘরিয়া খাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, যেসব এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছিল। দুইদিনের ব্যবধানে সেই স্থানে স্থাপনা তৈরি করে বসবাস করছেন দখলদাররা। উচ্ছেদের পর খাল রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ও নতুন করে খাল দখল হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতা আব্দুল বাছির বলেন, ঘটা করে খাল উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল। আমরা আশাবাদী ছিলাম যে হয়তো খাল উদ্ধার কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু উচ্ছেদ কার্যক্রমের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার খালগুলো দখল করা হয়েছে।
এদিকে, খাল উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, খাল উদ্ধারে অনেক অর্থের প্রয়োজন। এটি আমাদের কাছে নেই। খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।




