হাওরের বুকে সবুজ ছাতা, ২০০ বছরের পুরোনো বটবৃক্ষ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জুলাই ২০২৫, ২:২৬:১৮ অপরাহ্ন
রফিকুল ইসলাম লাখাই (হবিগঞ্জ) থেকে : রোদ, ঝড়-বৃষ্টি যে কোন পরিবেশে পথিক, কৃষক, রাখাল বা জেলেদের আশ্রয়স্থল একটি বটগাছ। পশু-পাখির নিরাপদ স্থান হয়ে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে গাছটি। হবিগঞ্জের সদর উপজেলা ও লাখাই উপজেলার কানাই নদীর পূর্ব পাড় ঘেঁষে ডুমড়া গ্রামের হাওরের বুকে প্রায় ২ একর জায়গা জুড়ে সবুজ ছাতার মতো দাঁড়িয়ে আছে বিরাট আকৃতির এই বটবৃক্ষটি। গাছটির ঝুলন্ত লতা আর শেকড় নেমে শত শত গাছের সৃষ্টি হয়েছে।
মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঝুড়িমূল কালের পরিক্রমায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল শাখা প্রশাখা নিয়ে।
স্থানীয় কানাই নদীর পাশে থাকায় মানুষের প্রশান্তির একটি স্থান হয়ে উঠেছে বৃক্ষছায়া। হাওরে আসা শত শত কৃষক ও পথিক বটগাছের শীতল ছায়ায় বিশ্রাম নেন। অথবা নদী পার হতে আসলে গাছের নিচে অপেক্ষা করেন অনেকে। স্থানীয়রা বলেন, বট গাছের বিশাল ছায়া এক শান্তির নীড়, যেখানে ক্লান্ত কৃষক ও পথিক পায় বিশ্রাম আর শীতলতা। বট গাছের ফল কাক, শালিক ও বাদুড়ের প্রিয় খাদ্য এবং শকুন জাতীয় পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। গ্রামবাসীর কেউ গাছটির কথা বাবার কাছে আবার কেউ দাদার কাছে শুনেছেন। বটবৃক্ষ নিয়ে কিংবদন্তিতুল্য গল্পও আছে বলে জানান অনেকে। গাছটির তলে অনেকে পূজার্চনাও করে থাকেন বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ সুন্দদ সরকার বলেন, শতবর্ষী বয়সী লোকদের নিকট থেকে শুনেছেন সেই সময় কুমার সম্প্রদায়ের লোকেরা ‘পাতকুয়া’ ব্যবহার করতো, সেন বংশীয় কুমার পরিবারের কোনো একজনের ‘পাতকুয়া’র উপর একদিন একটি গাছ জন্মে। সেই গাছটি হাওড়ের ফাঁকা জায়গায় রোপণ করা হয়েছিল। কারো কারো মতে প্রায় ২শ’ বছর আগে, আবার কেউ কেউ ২৫০ বছর আগের কথাও বলে মন্তব্য করেন। তবে প্রায় ২ শত বছরের পুরাতন বটবৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখা ও তার সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন গ্রামবাসী।




