পরিবারের দাবি হত্যা
দিরাইয়ে গৃহবধূর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু : বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:১৮:০৭ অপরাহ্ন
দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে রহস্যজনকভাবে নিহত গৃহবধূ সোমা আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে দিরাই উপজেলা সদরের থানা পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে নিহতের মা, বোনসহ স্বজন ছাড়াও স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বড় বোন সাবিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোনকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। অথচ পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদনে লিখেছে, সোমা আত্মহত্যা করেছে। যদি সত্যিই আত্মহত্যা করে থাকে, তবে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় কেন পাওয়া গেল না? কেন শ্বশুরবাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করা হলো না?”
তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস ও এসআই সোহেল সিকদ্দার টাকা নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো হত্যার মামলা গ্রহণ করেনি বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, সুমাকে তার স্বামী কয়েছ আহমদ ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। তারা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাইছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ আমার মামলা নিচ্ছে না।
তিনি জানান, দেড় বছর আগে কয়েছ আহমদের সঙ্গে বিয়ে হয় সুমা আক্তারের। পাশের বাড়ির কয়েছ আহমদের চাচাতো ভাই আকিকুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় সুমার বড় বোন সাবিনার। কয়েছের বোন সুইটি বেগমের কথামতো তাদের সংসার চলতো। সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকতো। তাদের ৫ মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
নিহত সুমা আক্তার দিরাই উপজেলার লৌলারচর গ্রামের মৃত আমির উদ্দিন তালুকদারের মেয়ে। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তার শ্বশুরবাড়ি দিরাই পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামে।
বক্তারা বলেন, সোমার মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। তারা এ ঘটনায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তাদের ভাষ্য, “আমরা চাই এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি আর না ঘটুক। এজন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
একপর্যায়ে মানববন্ধনকারীরা মিছিল নিয়ে থানার দিকে যেতে চাইলে গেটের সামনে ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে ওসি বলেন, আপনাদের অভিযোগ আমরা ফেলে রাখিনি। তদন্ত চলছে। আমি দুইবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আপনারা মানববন্ধন করেছেন। আপনাদের দাবী আমরা অবগত হয়েছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো। এ সময় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের উত্তজিত দেখা যায়।
পরে ওসির কাছে মামলা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন দ্যা স্পট না হলে, আমি বক্তব্য দিতে পারি না।
এ বিষয়ে এডিশনাল এসপি (ডিএসবি) মিডিয়া উইং জাকির হোসেনের কাছ থেকে বক্তব্য নিতে বলেন ওসি। জাকির হোসেনকে একাধিকবার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য গত ১২ আগস্ট পৌর শহরের চন্ডিপুর গ্রামে সুমা আক্তার (২২) নামের ওই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সুমা আক্তারের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে তার মা দিলারা বেগম বাদী হয়ে স্বামী কয়েছ আহমেদসহ পরিবারের চার জনের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা করেন।




