ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ : মারা গেল অবমুক্ত করা মাছ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ৮:০১:৩২ অপরাহ্ন
উবাইদুল হক, দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে অবমুক্তকরণের কিছুক্ষণ পরেই ভেসে উঠতে থাকে মৃত মাছের পোণা। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন পুকুরে পোনা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মরে ভেসে ওঠতে দেখা গেছে। এসময় উপস্থিত জনতাকে হট্টগোল করতেও দেখা যায়। তাদের মধ্যে অনেকেই বলেন, পছন্দের লোক দিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে মৎস্য পোনা ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব মৎস্য কর্মকর্তা এই মাছের পোনাগুলো কিনেছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী সুস্থ-সবল, যথাযথভাবে ওজন পরীক্ষা ও আকারে ১০-১৫ সেন্টিমিটার পোনা সরবরাহ করার কথা থাকলেও পোনা মাছগুলো ছিল দুর্বল ও নির্ধারিত আকারের চেয়েও ছোট।
এছাড়া জলাশয়ে অবমুক্ত করার আগেও পোনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। যার কারণে জলাশয়ে অবমুক্তর পর থেকে পোনা মাছগুলো মরে ভেসে ওঠে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে/জলাশয়ে মাছ ছাড়ার কথা রয়েছে। যার বাজেট মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
উপজেলার সুজানগর গ্রামের বাসিন্দা জয়নুল হক চৌধুরী বলেন, নীতিমালা না মেনে একজন অদক্ষ ঠিকাদারের কাছথেকে মাছ কেনার কারনে, পুকুরে ছাড়ার সাথে সাথে ৬০ ভাগ মাছ মরে ভেসে উঠেছে। তা খুবই দুঃখজনক বলে আমি মনে করি।
উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের চাঁন্দপুর গ্রামের এক উপকারভোগী বলেন, ‘মৎস্য কর্মকর্তা আমাদের যে পোনা মাছ দিয়েছেন, তা ওজন ও সাইজে ঠিক ছিল না। মাছগুলো সুস্থ-সবলও ছিল না। মাছগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই দেওয়া হয়েছে। যার কারণে পোনাগুলো মারা যাচ্ছে। আমাকে ৩৫ কেজি মাছের পোনা দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে ৬ কেজি মাছ মারা গেছে। আমার মনে হয় সবগুলি মাছই মারা যাবে।
ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন জানান, নৌকা থেকে মাছ সংগ্রহের সাথে সাথে পুকুরে না ছাড়ার কারণে কিছু মাছ মারা গেছে। এটা আমার কোন দোষ নয়, যারা রিসিভ করেছেন আমি মনে করি তাদের অবহেলার কারণে এমন হয়েছে।
এবিষয়ে মৎস্য পোনা ক্রয় কমিটির আহবায়ক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ কমিটির আহবায়ক হলেও মাছ কেনার সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই। এটা মৎস্য কর্মকর্তাই ভালো জানেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজীব সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।




