ওসমানীনগরে মৃত প্রবাসীর ব্যাংকের টাকা উত্তোলন নিয়ে উত্তেজনা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৭:৩৪:৩২ অপরাহ্ন
ওসমানীনগর (সিলেট)থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের ওসমানীনগরে আইয়ুব উল্লাহ (৬৫) নামে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মৃত্যু হলে তার ব্যাংক একাউন্টের টাকা উত্তোলন নিয়ে আত্মীয় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে আজ রোববার উভয়পক্ষই স্থানীয় বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং জনতা ব্যাংকের বুরুঙ্গাবাজার শাখায় টাকার প্রাপ্তির দাবী জানাচ্ছেন। প্রবাসীর পরিবারের কাউকে নমিনী না দিয়ে দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়কে ব্যাংকে নমিনী করায় এবং ব্যাংক গ্রাহকের মৃত্যু হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুমের পরিবারের বাইরের লোককে মৃত্যু সনদ প্রদান করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইয়ুব উল্লাহ জনতা ব্যাংক বুরুঙ্গা বাজার শাখায় তার নিজ নামে একটি একাউন্ট খুলেন। এই একাউন্টে তিনি নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের মিনার হোসেনের স্ত্রী সুলতানা হোসেনকে নমিনী দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১০ জুন আইয়ুব উল্লাহ সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে একাউন্টের প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা উত্তোলনের দাবী নিয়ে ব্যাংকে যান নমিনী সুলতানা হোসেন। এসময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের মৃত্যু সনদ নিয়ে আসতে বলেন। তখন সুলতানা হোসেন বুরুঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে মৃত্যু সনদের আবেদন করে মৃত্যু সনদ উত্তোলন করে ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু করেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি মৃত আইয়ুব উল্লাহর ভাগনা মো. হেলাল জানতে পেরে নমিনীকে টাকা প্রদান না করে আইয়ুব উল্লাহর উত্তরাধীকারীদের টাকা দিতে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাছনাতকে বলেন। কিন্তু ব্যবস্থাপক একাউন্টে দেওয়া নমিনীকে টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেন। বিষয়টি আইয়ুব উল্লার পরিবার ও আত্মীয়রা জানতে পেরে রোববার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়দের নিয়ে জনতা ব্যাংক বুরুঙ্গা বাজার শাখায় গিয়ে গ্রাহকের উত্তরাধিকারীদের টাকা প্রদানের জন্য দাবী জানান। এরপর দুপুর ১টার দিকে তারা বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছাড়া ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের জন্য দূরসম্পর্কের আত্মীয় সুলতানা হোসেনকে আইয়ুব উল্লাহর মৃত্যু সনদ কিভাবে প্রদান করা হলো তা জানতে চাইলে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রঙ্গেশ কুমার দাশ চেয়ারম্যান ছাড়া প্রকৃত ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি।
আইয়ুব উল্লাহর ভাগনা মো. হেলাল বলেন, আমার মামা মারা গেলে ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করতে আমি মৃত্যু সনদ নিতে ইউপি অফিসে আসি। তখন ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন জন্ম সনদ নিয়ে আসতে। আমি জন্ম সনদ নিয়ে আসার আগেই ইউপি সদস্য ঝনিক লাল দেবের মাধ্যমে দূরসম্পর্কের আত্মীয় সুলতানা হোসেনকে মৃত্যু সনদ দিয়ে দেন। আমার মামার ওয়ারিশান জীবিত আছেন। অসদুপায়ে তাদের বাদ দিয়ে মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেব।
নমিনি দাবীদার সুলতানা হোসেন বলেন, আমার স্বামী বিদেশ থেকে পিন নাম্বারে টাকা পাঠালে আমি ব্যাংকে যাই। সেখানে আইয়ুব আলী ভাই একটি একাউন্ট করলে আমাকে নমিনী দিয়ে দেন। মারা যাওয়ার আগে তিনি বলে গেছেন আমি ব্যাংকের টাকা তুলে নেওয়ার জন্য। এর আগেও তিনি আমাকে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝনিক লাল দেব বলেন, মৃত্যু সনদ আমি দেইনি, চেয়ারম্যান দিয়েছেন। এখন শুনছি তাদের টাকা নিয়ে কি সমস্যা আছে।
শালিস ব্যক্তিত্ব হাফেজ সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রকৃত উত্তরাধিকারের কাছে মৃত্যু সনদ না দিয়ে অন্য একজনকে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে। চেয়ারম্যানের উচিত ছিল মৃতের প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের হাতে মৃত্যু সনদ দেওয়া। আমরা ব্যাংক ব্যবস্থাপককে বলেছি বিশৃংখলা এড়াতে আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের টাকা প্রদান করতে।
জনতা ব্যাংক বুরুঙ্গাবাজার শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাছনাত বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ দাবী জানিয়েছেন। আইন অনুযায়ী প্রকৃত দাবীদারকে টাকা প্রদান করা হবে।
বিষয়টি জানতে দুপুর ১টার দিকে বুরুঙ্গা বাজার ইউপি কার্যালয়ে গেলে চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।




