জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন ॥ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ
শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিলো স্কলার্সহোম, ভাইস প্রিন্সিপালসহ তিন শিক্ষককে অব্যাহতি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:৩৪:০৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়ালের মৃত্যুর প্রতিবাদে ঘোষিত দশ দফা দাবি-বিক্ষোভের মুখে মেনে নিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সকালে ২য় দিনের মতো ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বৈঠকে সকল দাবি মেনে নেয় কর্তৃপক্ষ। পরে সোয়া ১১ টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমের সামনে কর্তৃপক্ষের দাবি মেনে নেয়ার বিষয়টি ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে স্কলার্সহোম এর শিক্ষার্থী আজমানের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনায় সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুসন্ধানে কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), সিলেটকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
জানা যায়, রোববার সকালে বিক্ষোভে স্কলার্সহোম শিক্ষার্থীরা দাবি করেন যে আজমানের মৃত্যু ‘আত্মহত্যা’ নয়, বরং শিক্ষকদের দুর্ব্যবহারে ‘প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যা’। পরে তারা উপাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম চৌধুরীর পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তবে এর আগেই গতকাল সোমবার আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার স্কলার্সহোমের শাহী ঈদগাহ শাখার অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুনীর আহমেদ কাদেরী বলেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী হাফিজ মজুমদার ট্রাস্টের সভায় শিক্ষার্থীদের সব দাবি ও সংস্কার প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অভিযুক্ত ভাইস প্রিন্সিপাল আশরাফ চৌধুরীসহ তিন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার আন্দোলন চলাকালে উপস্থিত আজমানের বোন বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান এবং দাবি আদায় হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি ছিলো -আজমানের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, উপাধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন চৌধুরীর পদত্যাগ, শ্রেণি শিক্ষক শামিম হোসেন ও সিনিয়র শিক্ষক মিস তাইবার অপসারণ, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা না করা, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে সুযোগ দেওয়া, কলেজের নোটিশ বোর্ডে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ, অভিভাবকের সঙ্গে অসদাচরণ বন্ধ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি গ্রহণ, পরীক্ষার রুটিন তৈরিতে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশ বন্ধ করা এবং ক্লাস ক্যাপ্টেন নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন: স্কলার্সহোম এর শিক্ষার্থী আজমানের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনায় সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুসন্ধানে কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), সিলেটকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। অপর দুই সদস্য হচ্ছেন এসএমপি কমিশনারের প্রতিনিধি ও জেলা শিক্ষা অফিসার, সিলেট। এই কমিটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই কমিটির কথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সিলেট নগরীর বনকলাপাড়া এলাকার বাসা থেকে আজমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের সুরতহাল বলছে ‘আত্মহত্যা’। পরিবারের অভিযোগ উচ্চ মাধ্যমিকের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ৫ বিষয়ে খারাপ ফল করায় চাপ সহ্য করতে না করতে পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে আজমান। আর এই চাপ প্রয়োগকারীরা হচ্ছেন তার ‘প্রিয়’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোমের শিক্ষকবৃন্দ।
আজমানের মা বলেছেন যে তাঁর সামনে ছেলেকে ‘বেইজ্জত’ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-প্রিন্সিপাল। একবার তার মা, একবার বাবা, একবার দুজনেই প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বললেও তারা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন, তাদেরকে বাধ্য করেন তাদের সন্তানকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার জন্য। এরপর আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।




