সিলেট মহানগর জামায়াতের সুধী সমাবেশে ডাঃ শফিকুর রহমান
ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ উপহার দেবো
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ২:২৯:২০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন,প্রতিশোধ প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। আর প্রতিহিংসা সমাজকে ধ্বংস করে। ২৪ এর ৫ আগষ্ট রাতে আমরা কী করেছিলাম, সকল ব্যথা ভুলে বুক থেকে ঝেড়ে ফেলেছিলাম। বলেছিলাম, আমরা ব্যক্তিগতভাবে কারও উপর থেকে প্রতিশোধ নেবোনা। সেই রাতে যদি শুধু বলে দিতাম, যে যার ক্ষতি করেছে তার সাথে একটু মোলাকাত করে আসো, তা হলে বাংলাদেশ একটি বধ্যভূমিতে পরিণত হতো।
তিনি বলেন, পলাতক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলতেন কোন কারণে আমাদের সরকারের পতন হলে ২ দিনের ভেতর আমাদের ৫ লাখ লোক মারা যাবেন। ডাঃ শফিক বলেন, শুধু দলীয় কর্মী নয়, সেই কঠিন সময়ে আমরা সকলকে বললাম, প্লিজ কেউ কারো ক্ষতি করবেন না। আওয়ামীলীগ দায়িত্বজ্ঞানহীন দল হলেও এ জাতি এ দেশকে রক্ষা করেছে। তারা সরকারবিহীন একটি দেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়নি।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর আমান উল্লাহ কনভেশন হলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও সিলেট-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।
সমাবেশে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তি ছাড়াও বন্ধুপ্রতিম ও সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি ডাঃ শফিকুর রহমান আরো বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আর আমরা সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গঠন করতে চাই। একটি দল বলেছে তারা জামায়াতে ইসলামী বাদে বাকি সব দল নিয়ে কাজ করবে। আমরা বলছি, আল্লাহ যদি আমাদের সরকারে বসায়, তাহলে তাদেরসহ সবাইকে নিয়েই আমরা দেশ গড়বো। দেশের চিত্র পাল্টে দেবো। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ উপহার দেবো।
তিনি বলেন, একদল লুটপাট করবে, বিদেশের মাটিতে বেগমপাড়া করবে, মানুষ অত্যাচারের শিকার হবে। এটা আমরা চাই না। এজন্য জনগণের কথা এবার আমরা পরিবর্তন চাই। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ থামাতে পারবে না। আর সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে মানুষ আর ব্যাংক লুটপাট করবে না, মানুষ খুন করবে না, মানুষের জিনিসপত্র আত্মসাৎ করবে না। আমরা শিক্ষার উন্নয়ন করতে চাই, মানুষের কল্যাণ করতে চাই, দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। সমাজ নষ্ট করা ইঁদুরদের আমরা তাড়াতে চাই। আপনারা আপনাদের হাত আমাদের জন্য বাড়িয়ে দিন।
তিনি আরও বলেন, দেশে এমন একটা সময় ছিল, মানুষ মুখ খুলে কথা বলতে পারতো না, কর্মস্থলে যেতে পারতো না, জীবনের কোনো গ্যারান্টি ছিল না। অদৃশ্য মানুষগুলো কখনো ফিরে আসবে কি না, তার নিশ্চয়তা ছিল না। কখন কোন মায়ের বুক খালি হবে, কোন বোন বিধবা হয়ে যাবে, তার নিশ্চয়তা ছিল না। তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের নিষিদ্ধ করে। অন্য কোনো পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিছু দলের ওপর হামলা-মামলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের মতো বুলডোজার দিয়ে কারো বাড়িঘর গুড়িয়ে দেওয়া হয়নি। আমরা এখনো আছি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু তারা নেই। এটাই আল্লাহর ফায়সালা।
প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রবাসে ১৪ দিন কাটিয়ে এসেছি, প্রবাসীদের সাথে কথা বলেছি। আপনাদের ভোটের অধিকার ছিল না, আমরা লড়াই করেছি। আমরা বিশ্বাস করি প্রবাসীদের একটি অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে বাকি অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে। সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। প্রবাসীরা তাদের আগ্রহের কথা আমাকে জানিয়েছেন। সকলকে ভোটের আওতায় নিয়ে আসা হোক। এখন যতটুকু পারা যায়, ততটুকু অন্তত করা হোক। আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশগড়ার কাজে আমরা প্রবাসীদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।




