আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শাবি ছাত্রশক্তি নেতাকে অব্যাহতি, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ আগস্ট ২০২৬, ৮:৩৫:১৬ অপরাহ্ন
শাবি থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : মেসেঞ্জারে আপত্তিকর চ্যাট করার অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রশক্তির নেতা সাজিদ আহমেদ মোল্লাকে সংগঠনের সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের নির্দেশক্রমে এ অব্যাহতি দেওয়া হয়। এদিকে তার শাস্তির দাবিতে শনিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাজিদ আহমেদ মোল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে তিনি শাখা ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাজিদ আহমেদ মোল্লাকে সকল প্রকার সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে নারীকে অবমাননা, ভিকটিম ব্লেমিং ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নারীবিদ্বেষী মনোভাব আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন শাবিপ্রবি শাখার সংগঠক নাজনীন লিজা বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রশক্তি নেতার মন্তব্য অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও নারীর প্রতি অবমাননাকর। এছাড়া একটি শিশুকে নিয়ে তার এরকম মন্তব্য যে কি না অপ্রাপ্ত-বয়স্ক মেয়ে। যেটাকে বলা হয় পেডোফিল, অর্থাৎ শিশুকামিতার মতো জঘন্য একটা কাজের সাথে এই লোকটা জড়িত এবং আপনারা খেয়াল করে দেখবেন পরবর্তীতে তার কোনো অনুতাপ নেই। শুধু পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া কোনো শাস্তি হতে পারে না। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, এর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ-পুসাব’ নামে একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে শাবি শাখার যুগ্ম আহবায়ক সাজিদ আহমেদ মোল্লার মেসেঞ্জারের কথোপকথনের কিছু অংশ ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতা সাজিদ আহমেদ বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়ানো হচ্ছে। তবে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটটি আমার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে এক বছর আগের ব্যক্তিগত চ্যাটের অংশ। এর সঙ্গে কোনো সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমরা সমবয়সী হওয়ায় দুষ্টুমি করে অনেক কথা বলতাম। ওই কথোপকথনের একটি অংশ এখন সামনে এসেছে। যে মূল অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ঘটনাটি ঢাকায় ঘটেছে, তখন আমি সিলেটে ছিলাম। এখন আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। শুধু একটি পুরোনো ব্যক্তিগত মেসেজের ভিত্তিতে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।




