মাসুকগঞ্জ-কাইমগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কার দাবি এলাকাবাসীর
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭:২৯ অপরাহ্ন
আনাস হাবিব কলিন্স
সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে কাইমগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের এখন বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরা পাকা সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট সফরে এসে মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। সে সময় তড়িঘড়ি করে তেমুখি থেকে মাসুকগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার হলেও বাজারের পশ্চিম অংশের রাস্তাটি উপেক্ষিত রয়েছে। সড়কটি মেরামত না করায় বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তেমুখি থেকে মাসুকগঞ্জ বাজার, বাছিরপুর, সুজাতপুর, সোনাপুর, কাইমগঞ্জ পর্যন্ত পাকা সড়কটি নির্মাণ করা হয়। ফলে, ওই এলাকার লোকজনের চলাচলের ভোগান্তি দূর হয়। চাঞ্চল্য ফিরে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এমনকি ওই রাস্তা দিয়ে সিলেটের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিশ্বনাথের লোকজনের চলাফেরার পথ সুগম হয়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে ওই সড়কে কোন সংস্কার হয়নি। ২০২২ সালের বন্যায় এ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সংস্কার না হওয়ায় এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে কাইমগঞ্জ-বাওনপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। খানাখন্দ আর ভাঙা রাস্তার কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের কোথাও পিচ নেই। ইটের খোয়া বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন, পাকা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করলেও সড়ক সংস্কার না হওয়ায় তাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল ও মাদ্রসাগামী শিক্ষার্থীরা বেশী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। খানাখন্দের কারণে এ সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। রোগী ও শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের নিয়ে এ সড়কে চলা দায় বলেও জানিয়েছেন তারা।
পশ্চিম দর্শার হাতিম চৌধুরী ইসলামিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবী বেলালুজ্জামান চৌধুরী জানান, কবে যে এই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল তা ভুলে গেছি। সড়ক সংস্কারের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকেও অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পশ্চিম দর্শার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, জনস্বার্থে সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।
সিএনজি অটোরিক্সা চালক নূর আলম বলেন, আমাদের বিকল্প কোনো সড়ক নেই। তাই বাধ্য হয়ে এত খারাপ সড়ক দিয়ে চলতে হয়। যদি পাঁচ কিলোমিটার ঘুরেও যেতে হতো তবু এ সড়ক দিয়ে চলতাম না।
এ ব্যাপারে কান্দিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মনাফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর ইউনিয়নের প্রতিটি পাকা সড়কই সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় রয়েছে। মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে কাইমগঞ্জ-বাওনপুর পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করতে মাঝে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় তিনি তুলে ধরলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। তাকে শুধু সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে সিলেট সদর উপজেলার প্রকৌশলী আলিফ আহমেদ জানান, মাসখানেক আগে তিনি সদর উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই সড়ক সংস্কারের কাজ পেয়ে আবার কাজ বন্ধ করেছে তার কারণ জানতে নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। জবাব পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওই প্রকৌশলী।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ জানান, এই সড়কটি সংস্কারে উদ্যোগ নিলেও ঠিকাদারের অসহযোগিতায় তা সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।



