নৃত্যশিল্পীকে নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেফতার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নৃত্যশিল্পীকে নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত ১ জনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
গ্রেফতারকৃত মুজাহিদ (১৮) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইলের বুড্ডার আঙ্গুর মিয়ার ছেলে।
এসআরবি-৯ জানায়, ভিকটিম (১৬) কুমিল্লার চান্দিনা থানাধীন হারং এলাকার বাসিন্দা এবং একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী। গত ৮ সেপ্টেম্বর ১নং বিবাদী রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজ থেকে সাক্ষী সাইদ হোসেনের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে ফোন করেন। ১নং বিবাদী ফোনে জানান যে, গত ১০ সেপ্টেম্বর তার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য একটি ড্যান্স টিম প্রয়োজন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিমের সাথে ১নং বিবাদীর নৃত্য পরিবেশনের জন্য ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকে চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভিকটিম সাক্ষী তাসলিমা আক্তার ও সাক্ষী সাইদ হোসেন রাকিবের কথামতো নৃত্য পরিবেশনের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা থেকে সরাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাইল থানাধীন কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে সেখানে অপেক্ষমাণ রাকিব তাঁদের গ্রহণ করেন এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে তাদেরকে সরাইল থানাধীন শাহবাজপুর ব্রিজের নিচে নিয়ে যান। রাকিব ও তার সহযোগীরা ভিকটিম এবং তার সঙ্গীদের নদীপথে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠতে বলেন এবং ভিকটিম ও তার সঙ্গীরা নৌকায় ওঠেন। নৌকাটি শাহবাজপুর ব্রিজের নিচ থেকে তিতাস নদীর মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালে রাকিব হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এ সময় তার সহযোগিতায় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি নৌকার ছাউনির ভেতরে প্রবেশ করে ভিকটিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে নৌকায় থাকা অন্যান্য সাক্ষীরা রাকিব ও তার সহযোগীদেরকে বাধা প্রদান করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভিকটিমসহ অন্যান্য সাক্ষীদের নাসিরনগর থানাধীন গোকর্ণ এলাকার নদীর পাড়ে নামিয়ে দিয়ে বিবাদীরা নৌকাযোগে পালিয়ে যান। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে এসআরবি- ৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
পরবর্তীতে এসআরবি-৯, সদর কোম্পানি, সিলেট এবং সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর একটি যৌথ আভিযানিক দল মঙ্গলবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১১ টায় সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নৃত্যশিল্পীদের নাচের অনুষ্ঠানের কথা বলে নিয়ে এসে সংঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তদন্তে প্রাপ্ত ১ জন পলাতক আসামি মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনার তার সম্পৃক্তাতার কথা স্বীকার করে উপরোক্ত তথ্যাদি প্রকাশ করে।
কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



