অক্সফোর্ডে ক্যানসার গবেষণায় অনন্য কৃতিত্ব
বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশি গবেষক নাফিস চৌধুরী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২:৫৯ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : আমাদের জীবনে রোগ আগে আসে, ওষুধ আসে পরে। তবে তরুণ গবেষক নাফিস চৌধুরীর পড়াশোনা ও গবেষণার পথটা ঠিক এর উল্টো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে ফার্মেসিতে স্নাতক সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। এরপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এপিডেমিওলজি বা রোগতত্ত্বে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন এই মেধাবী গবেষক। শুরু থেকেই ক্যানসারের কারণ, ঝুঁকি, বিস্তারের ধরন এবং এর প্রতিরোধ ও চিকিৎসাকে আরও কার্যকর করার উপায় খুঁজে বের করা ছিল তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য।
অক্সফোর্ডের ক্যানসার এপিডেমিওলজি বিভাগে তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে স্তন, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক। প্রায় ১৩ লক্ষ নারীর তথ্যসমৃদ্ধ বিশ্বের বৃহত্তম নারীভিত্তিক ডেটাসেট ‘দ্য মিলিয়ন উইমেন স্টাডি’ ব্যবহার করে তিনি এই গবেষণা পরিচালনা করেন। এছাড়া, ওষুধের ব্যবহার থেকে হরমোনের পরিবর্তন এবং সেখান থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি-এই জটিল যোগসূত্র উদ্ঘাটনে তিনি মানুষের জেনেটিক ডেটা নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অক্সফোর্ডের হেলথ ডেটা সায়েন্স গ্রুপ থেকে তাঁকে ‘ট্রুয়েটা বার্সারি অ্যাওয়ার্ড’ ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
অক্সফোর্ডের পাঠ চুকিয়ে নাফিস বর্তমানে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের শতবর্ষী ও বিশ্বখ্যাত ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ’-এ (আইসিআর) ক্যানসার রিসার্চ ডেটা অফিসার হিসেবে। বর্তমানে তিনি আইসিআরের মর্যাদাপূর্ণ Cancer Data-Driven Detection (CD3) প্রোগ্রামে কাজ করছেন। যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য, জনমিতিক বৈশিষ্ট্য, দেহমিতিক পরিমাপ, জীবনযাপন ও ভূস্থানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ণয় ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনে এই প্রোগ্রাম কাজ করছে।
বিশ্বমানের এই গবেষণায় নাফিস চৌধুরীর সম্পৃক্ততা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয় বরং বিশ্ব ক্যানসার গবেষণার অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের অধ্যায়। উল্লেখ্য, নাফিস চৌধুরী বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান (গ্রেড ১) জিল্লুর রহমান চৌধুরী ও পারমিতা জামান চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহমাদাবাদ গ্রামে।



