শাবিতে গবেষণা উৎকর্ষতায় ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেলেন চার শিক্ষক
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার শিক্ষককে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চ এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের ২৩২ নম্বর রুমে এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং শাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম।
সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়েশা ফেরদৌস মিতা। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘অপ্টিমাইজিং প্রোপার্টিজ অব কংক্রিট কনটেইনিং স্টোন ডাস্ট অ্যান্ড সিরামিক টাইলস অ্যা রেসপন্স সারফেস মেথডোলজি অ্যাপ্রোচ’। গবেষণাটি ক্লিনার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৭.৩, এসজেআর ১.৩৮১ এবং এটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত।
কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের জাহিদ হাসান শৌরভ ও ড. মো. জহুরুল ইসলাম।
জাহিদ হাসান শৌরভের গবেষণার বিষয় ‘এক্সট্রাকশন অব পেকটিন ফ্রম ওয়াটারমেলন রাইন্ডস ইউজিং সিকুয়েনশিয়াল আল্ট্রাসাউন্ড-মাইক্রোওয়েভ টেকনিক, অপ্টিমাইজেশন ইউজিং আরএসএম অ্যান্ড এএনএন মডেলিং অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন’। গবেষণাটি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ম্যাক্রোমলিকিউলস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৮.৭, এসজেআর ১.২৮৭ এবং এইচ-ইনডেক্স ২৪৭।
একই ক্যাটাগরিতে ড. মো. জহুরুল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন অব অ্যান ইনোভেটিভ ইউভি-রেজিস্ট্যান্ট বায়োকম্পোজিট ফিল্ম বেজড অন হিপটিস সুয়াভিওলেনস মিউসিলেজ, ব্ল্যাক গ্রাম হাস্ক লিগনিন, অ্যান্ড সিট্রাস ম্যাক্রোপটেরা এসেনশিয়াল অয়েল’ শীর্ষক গবেষণার জন্য। গবেষণাটিও ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ম্যাক্রোমলিকিউলস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিসেস নাসিমা বেগম। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘কন্ট্রোলড হিট ইনপুট ইন লেজার মেশিনিং অব পিএমএমএ: আ জিএ-আরএসএম অ্যাপ্রোচ’। গবেষণাটি রেজাল্টস ইন ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৯.৪, এসজেআর ১.২৪ এবং এটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত।
গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয় কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড শাহিদুর রহমানকে। তার জার্নাল আর্টিকেল ৭ টি, সাইটেশন ১২০, কনফারেন্স পেপার ৩৯।
পুরস্কারের মূল্যায়নে জার্নাল আর্টিকেল, কিউ ইনডেক্স, কনফারেন্স পেপার, গুগল স্কলারের সাইটেশন, পিএইচডি, এমএসসি ও বিএসসি পর্যায়ের সুপারভিশন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিসার্চ গ্রান্ট এবং জাতীয় স্বার্থে গবেষণায় অবদানের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রসার এবং জাতীয় উন্নয়নে গবেষণার ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে গবেষণা জোরদারের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপ-উপাচার্য রবিউল ইসলাম বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেই গবেষণার কাজ শেষ হয় না; গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো যায়, এখন সেদিকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনেক ধরনের সফটওয়্যার, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সবগুলো সবসময় যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। তাই প্রত্যেক বিভাগে একই ধরনের সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে বিদ্যমান সুবিধাগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে সবাইকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া দরকার।
গবেষণার ফলাফল পেটেন্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যেই আটকে না থাকে। একটি ভালো গবেষণা থেকে যদি পেটেন্ট বা বাস্তব কোনো উদ্ভাবন তৈরি করা যায়, সেটিই হবে গবেষণার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেটেন্টিং ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তরুণ গবেষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পিএইচডি বা পোস্টডক্টরাল গবেষণা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছেন, তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার ধারণা নিয়ে আসছেন। এসব জ্ঞান অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় আরও আগ্রহী হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার যে সুযোগ রয়েছে, সেটি আমাদের বড় শক্তি। বিশেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা বেরিয়ে আসবে।



