রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন সিলেট মহানগর বিএনপির
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪৭:৩২ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। একারণে মঙ্গলবার বিকেলে নগরভবনে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোন নেতা অংশ নেননি। সিসিক প্রশাসকের ‘গাফিলতি ও স্বেচ্ছাচারিতা’র কারণে শুধুমাত্র সিসিকের নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি বর্জন করার কথা বলেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে মহানগর বিএনপির কোনো নেতার সাথে আলোচনা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে এটি আয়োজন করেছেন। এছাড়া এতে নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এবিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রাম বয়কট করিনি। রাষ্ট্রপতি সিলেটে এসেছেন, আপনি দেখেছেন আমরা এয়ারপোর্টে রিসিভ করেছি। আমরা দুটি মাজারে গিয়েছি। এখন আমরা রাষ্ট্রপতির সাথে সার্কিট হাউজে বসে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের যে গাফিলতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা, ঐটার কারণে আমরা ঐখানে যাইনি। আমরা রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রাম বয়কট করিনি, আমরা সিটি কর্পোরেশনে যাইনি। দুইটা মিটিং হয়েছিল যে নাগরিক কমিটি করার কথা, সেখানে নাগরিক কমিটি উনি করেননি। উনি উনার মতো করে করেছেন। এছাড়াও আজকে কিছু ঘটনা ঘটে ঘটেছে, যেটা পুরোপুরি প্রশাসকের ইনটেনশনালি। যার কারণে আমরা প্রশাসকের এই প্রোগ্রামে যাইনি। সেখানে আমাদের নির্ধারিত গাড়ি যেভাবে দেওয়ার কথা ছিল, সেভাবে আমাদেরকে গাড়ি দেওয়া হয়নি। গাড়িও আমাদের সার্কিট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দরগার মধ্যে আমাদের গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দরগায় গাড়ি অনেক দূরে থেকে গেছে, আমরা হেঁটে যেতে হইছে। পরে আমরা গাড়ির মধ্যে উঠতে হইছে। এই সমস্ত কাণ্ডকারখানা যেগুলো অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। যার কারণে আমরা সিসিকের এটাতে যাইনি।
গাড়ি আসা-যাওয়া সিসিকের নিয়ন্ত্রণে করা হয়েছে কি না বললে তিনি বলেন, যেহেতু প্রশাসক এই বিষয়টায় পুরো অ্যারেঞ্জমেন্ট করছেন, সেহেতু মনে হয় এটা প্রশাসক এবং আমরা যতটুকু বুঝতে পেরেছি, তিনি করেছেন। এবিষয়ে সার্কিট হাউসে বসে রাষ্ট্রপতির সাথে আমাদের কথা হয়েছে।
এবিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির সকল প্রোগ্রামে ছিলাম। শুধু সিসিকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিলাম না। সিটির প্রশাসকের অ্যাক্টিভিটিজে আমরা হ্যাপি আসলাম না। এজন্য যাই নি। এবিষয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না। কারণ দিনশেষে তো আমরা একসাথেই চলবো আর এটা মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রাম।
এবিষয়ে জানতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে পাওয়া যায় নি।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগর ভবন প্রাঙ্গণে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেখানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি রাহাত আরা বেগম, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে সার্কিট হাউজে গেলে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি সেখান থেকে হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহ পরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন।



