সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
সুনামগঞ্জ গীতিকার পরিষদের নাম ভাঙিয়ে সভাপতি ও সম্পাদক ফায়দা লুটছেন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ৩:২৩:৫৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সুনামগঞ্জ গীতিকার পরিষদ সিলেট এর নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লুটছেন সংগঠনের সভাপতি মাসুক আহমদ তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মাসুক এলাহী। তারা গানের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে অংশ গ্রহণকারীদের কাছ থেকে ইয়েস কার্ড দেয়ার নামে টাকা আদায় করছেন। এসব বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা তাদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন পরিষদের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব আমির উদ্দিন শিহাব।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, নগরীর আউল বাউল ও গুনী গীতিকারদের সমন্বয়ে ২০২৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। যার নামের সাথে সুনামগঞ্জের সুনাম, খ্যাতি-ইতিহাস, ঐতিহ্য জড়িত। ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির সভাপতি মাসুক আহমদ তাহের ও সাধারণ সম্পাদক মাসুক এলাহী সংগঠনকে সুন্দর ও সুচারু রূপে পরিচালনার জন্য সংবিধান প্রণয়ন করেন। ২০২৪ সালের প্রথমদিকে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করে সুনামগঞ্জের বাউলদের নিয়ে সিলেটের মাটিতে একটি গানের প্রতিযোগিতা করার সিদ্ধান্ত হয়। যেখানে কথা ছিল ৪র্থ ও ৫ম রাউন্ডের ভিতরে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করার। এখন দেখা যায় ৬ষ্ঠ রাউন্ড শেষ হওয়ার পরেও প্রতিযোগী শিল্পিদের শুধু ইয়েস কার্ড দিয়েই যাচ্ছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
তিনি আরো জানান, গানের ৬/৭টি রাউন্ড করায় অনেক প্রতিযোগী শিল্পিরা আপত্তি তুলেন। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের একক ভূমিকা থাকায় বিচারকরাও কোনো শিল্পিকে বাতিল করতে পারেননি। এতে সবার দৃষ্টিগোচর হয় যে, প্রতিযোগিতার নাম করে বিভিন্ন গুণী ব্যক্তির ছবি ব্যানারে ব্যবহার করে সবার অজান্তে তাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। যে টাকার কোনো হিসাব তারা দেননি। এছাড়া, স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, যেমন ১, ২, ৩ অডিশনে গান না গেয়েও কোনো কোনো শিল্পি হঠাৎ এসেও গান গেয়ে ইয়েস কার্ড নিয়ে যান। সংগঠন পরিপন্থি এমন কর্মকান্ড সাধারণ সদস্যরা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি।
আমির উদ্দিন শিহাব অভিযোগ করে বলেন, এসব বিষয় নিয়ে সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে আলাপ আলোচনা করে সুরাহা না পেয়ে তারা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে সবাইকে পাশ কাটিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে আগামী ২৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে ৭ম রাউন্ড প্রতিযোগিতার দিন ধার্য্য করেছেন। কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদধারী এবং সাধারণ পরিষদের সদস্যগণ এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবেন না বলে জানান। এই অডিশন বন্ধ করতে তারা সিলেটের জেলা প্রশাসক ও এসএমপি কমিশনার বরাবরে আবেদন করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় জরুরি সভা ডেকে সুনামগঞ্জ গীতিকার পরিষদ সিলেট এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন এবং জেলা সমাজসেবা থেকে অনুমোদন নিয়েছেন। ইয়েস কার্ড প্রাপ্ত বাউল শিল্পীদের মাসুক আহমেদ তাহের ও মাসুক এলাহীর সাথে কোনো ধরনের টাকা পয়সার লেনদেন না করতে সংবাদ সম্মেলনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহবায়ক বিরহী লাল মিয়া, যুগ্ম আহবায়ক উদাসী লাল মিয়া, সদস্য শীতল কান্ত দাস, মো. আবর মিয়া পীর, নুরে আলম সোহাগ ও প্রেমিক আনোয়ার প্রমুখ।




