পুত্র হত্যাকান্ড, হত্যার হুমকিতে জালালাবাদ থানায় জিডি করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৩১:২৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় আটক লিমন মিয়া সম্প্রতি বিচারকের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে গত ৬ নভেম্বর এসএমপি’র জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী (৪৪) আহত হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। আহত হওয়ায় ওই যুবককেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এসএমপির জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ মোহাম্মদ মুবাশ্বির জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘জজ স্যারের স্ত্রীকে ওই যুবকটি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করত। ভয় দেখিয়ে ম্যাডামকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা দাবি করছিল। কিছুদিন আগে ম্যাডাম সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তার মেয়েকে দেখতে এসে ভোগান্তির শিকার হয়ে থানায় এসে জিডি করে গেছেন।
ওসি আরো জানান, ‘ম্যাডাম সিলেট আসার খবর পেয়ে ওই যুবকও সিলেটে আসে এবং অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ম্যাডাম ওই ঘটনায় জিডি করেছেন, মামলা করেননি। তাই, পুলিশ ওই যুবককে জিডির বিপরীতে গ্রেফতার দেখাতে পারেনি। তবে ওই যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠান।
ওই জিডিতে তাসমিন নাহার লুসী তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা হিসেবে সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানার খাদরা মডেল টাউনের কথা উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত লিমন মিয়ার (৩৫) ঠিকানা উল্লেখ করা হয়, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ভবানিগঞ্জ মদনেরপাড়া এলাকায়।
জিডিতে তাসমিন নাহার উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ার সূত্র ধরে লিমন মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিমন মিয়া আর্থিকভাবে কিছুটা দুর্বল হওয়ায় মুঠোফোনে প্রায়ই তাসমিন নাহারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাইতেন। এক পর্যায়ে প্রতিনিয়ত তার কাছে সহযোগিতা চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর লিমন মিয়া মুঠোফোনে কল দিয়ে হুমকি প্রদান করেন। সবশেষ ৩ নভেম্বর সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে লিমন মিয়া তাসমিন নাহারের মেয়ের ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল করে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগায় তিনি জিডি করেন।
জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর ডাবতলা এলাকার এই ভবনের পাঁচতলায় ভাড়া থাকেন বিচারক আব্দুর রহমান। হামলার পর পুলিশ বাসাটি ঘিরে রাখে। হামলাকারী হিসেবে আটক যুবক বিচারকের বাসায় ঢোকার সময় ভবনের দারোয়ানের কাছে থাকা খাতায় নিজের নাম লিখেছেন লিমন। বিচারকের ভাই পরিচয় দিয়ে তিনি পাঁচতলার ফ্ল্যাটে যান।
ভবনটির দারোয়ান মেসের আলী জানান, ওই যুবককে তিনি আগে কখনো দেখেননি। বিচারককে ভাই পরিচয় দেওয়ায় তিনি ঢুকতে দেন। তবে তার আগে নাম ও মুঠোফোন নম্বর লিখিয়ে নেন। বেলা আড়াইটার দিকে ওই যুবক ফ্ল্যাটে যান। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী তাকে এসে জানান, ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলেকে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও চলে আসেন। তারা সবাই ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনকেই আহত পান। এরপর তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।




