সিলেটের জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারেনি লকডাউন, পৃথক শোডাউন জামায়াতের, সন্ধ্যায় বিএনপির মিছিল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা ‘লকডাউন’-এর কোনো প্রভাব পড়েনি সিলেটের জনজীবনে। কর্মসূচি চলাকালে সিলেটের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছিল। সিলেটের কোথাও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কোনো ধরনের তৎপরতাও দেখা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মহানগর বিএনপি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি মিছিল বের করে। অন্যদিকে সকাল থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জামায়াত শিবিরকে আলাদা আলাদাভাবে সভা-মিছিল করতে দেখা যায়। এর আগে বুধবার রাতে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান ছিলো জামায়াত বিএনপির জুলাই যোদ্ধাদের।
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার মামলার বিচারকার্য ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশকে টহল ও নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে। সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি আশপাশের এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সিলেটে নাশকতার আশঙ্কা নেই। তারপরও কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নগরীর ১৫টি স্থানে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।’
বিএনপি : দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নাশকতা, ঘোষিত লকডাউন ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে সিলেট নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা ‘ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই, শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই,’ ‘জিয়া তুমি আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো,’ ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই,’ ‘সারা বাংলার জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই কর,’ সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
এরপর এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। আজ গ্রেপ্তার হওয়া প্রত্যেকে টাকার বিনিময়ে এসব নাশকতায় যোগ দিচ্ছে। তার ঘোষিত আজকের কর্মসূচি ভেস্তে গেছে। এসব কর্মসূচি বন্ধ করে শেখ হাসিনাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান তারা।’ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা কমিটির বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, গত দেড় দশক এদেশের মানুষের সকল মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে ফ্যসিবাদ কায়েম করেছিল আওয়ামী লীগ। জুলাইয়ে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের জন্য ছাত্র-জনতা মিলে আন্দোলন করেছিলাম। সেই আন্দোলনে গণহত্যা চালিয়েছিলো খুনি হাসিনা। সেই গণহত্যার বিচারের রায় আমরা আজও পাইনি। রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু সেই রায় ঘোষণাকে বানচাল করার জন্য খুনি হাসিনার দোসররা মাঠে নেমে গেছে। তারা দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করে নাশকতা ও নৈরাজ্য চালিয়েছে। অবিলম্বে নৈরাজ্যকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুনিদের বিচার করা হোক। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল হাকিম ও রহিম মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, শুয়াইব আহমদ শোয়েব, রেজাউল করিম আলো, আহমদ মঞ্জুরুল হাসান মঞ্জু ও আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, প্রচার সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মোহন, যুব বিষয়ক সম্পাদক মির্জা সম্রাট, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আফসর খান, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুদীপ জ্যোতি এষসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মি।
জামায়াত: বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট নগরীর মদীনা মার্কেট এলাকায় পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক দেশে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার হুমকীর প্রতিবাদে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোটের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। দুপুর ১টায় নগরীর টিলাগড় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় মিছিল সমাবেশ। বিকেলে নগরীর দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, গণহত্যাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ পলাতক আওয়ামী লীগ পুরনো কায়দায় দেশে আগুন সন্ত্রাস ও নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে। তারা পালিয়ে থেকে দেশে লকডাউনের ডাক দিয়ে নাশকতা উস্কে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এদেশে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের সকল গণহত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানে দ্রুত গণভোটের আয়োজন করতে হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচনের আগে সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দিনভর নগরীর মদীনা মার্কেটে সকালে, টিলাগড় এলাকায় দুপুরে ও দক্ষিণ সুরমা ভার্থখলা এলাকায় বিকেলে পৃথক মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে মদীনা মার্কেট এলাকায় সিলেট সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজির আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মিছিল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াত নেতা উপাধ্যক্ষ সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, মহানগর জামায়াতের বায়তুল মাল সেক্রেটারি মুফতী আলী হায়দার, জালালাবাদ থানা আমীর ক্বারী আলাউদ্দিন, বিমানবন্দর থানা আমীর শফিকুল আলম মফিক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি তুহিন আহমদ প্রমুখ।
দুপুর ১টায় নগরীর টিলাগড় এলাকায় অনুষ্ঠিত মিছিল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- শাহপরান পশ্চিম থানা আমীর শাহেদ আলী, শাহপরান পূর্ব থানা আমীর শামীম আহমদ ও কোতোয়ালী পূর্ব থানা আমীর রফিকুল ইসলাম মজমুদার প্রমুখ।
এদিকে বিকেলে নগরীর দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকায় অনুষ্ঠিত মিছিল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, দক্ষিণ সুরমা থানা আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান ও কোতোয়ালী পশ্চিম থানা আমীর মুহাম্মদ আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।




