তাহিরপুরে পর্যটকদের ফেলা বর্জ্যে হাওরে ব্যাহত কৃষি কাজ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫৪:৩২ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের পর্যটন এলাকা টেকেরঘাটে পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য,পলিথিন, কাঁচের বোতলে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কাজ। পর্যটক ও হাউজবোট মালিকদের অসচেতনতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে মাত্রাতিরিক্ত প্লাস্টিক দূষণের কবলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি জমি। জমিতে পরিত্যক্ত কাঁচের ভাঙ্গা বোতলের কারণে কৃষিকাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন কৃষকরা। তাছাড়া প্লাস্টিক দূষণের কারণে উর্বরতা হারাচ্ছে হাওরের জমি।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় পর্যটকবাহী শত শত হাউজবোট টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে উপজেলার টেকেরঘাট এলাকায় রাতযাপন করেন। এ কারণে পর্যটক ও নৌ শ্রমিকেরা যখন-তখন পানির বোতল, চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট, পলিথিনসহ প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলছেন পানিতে। ঘুরতে আসা পর্যটকরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্রহণ করছে ইন্ডিয়ান মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় কোমল পানীয়।
পানি নেমে যাওয়ার পর হাওরে ফেলা এসব বর্জ্য দৃশ্যমান হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে অন্তত ২শ’ একর বোরো জমি। কিছুদিন পরই হাওরজুড়ে বোরো মৌসুম শুরু হবে। এখন চলছে বীজতলা তৈরির কাজ। তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট হাওরে বীজতলা তৈরি করতে গিয়ে প্রতিদিনই কাঁচের বোতলে আঘাত পেয়ে আহত হচ্ছেন কৃষকরা। এ কারণে ফসল আবাদ করতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা।
সুরুজ মিয়া নামের স্থানীয় এক কৃষক বলেন, বর্ষায় পর্যটকরা নৌকায় করে প্লাস্টিক, কাঁচের বোতল, পলিথিন ফেলে গেছেন। জমিতে প্লাস্টিক এর সাথে মদের বোতলে ভর্তি। ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করা যায় না। হাতে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই হাত পা কেটেছে। আমরা বড় সমস্যায় আছি।
রুবেল নামের কৃষি শ্রমিক বলেন, কাঁচের বোতলে আমার পা কেটে গেছে। আমি কয়েকদিন ধরে ঘরে বসে আসি। কৃষকরা জমিতে নামতে চায় না এই বোতলের ভয়ে। টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা ও পরিবেশ কর্মী বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতা এন্ড্রো সলোমার বলেন, সেখানকার প্লাস্টিক দূষণের জন্য মূলত পর্যটকরা দায়ী। হাউজ বোট কর্তৃপক্ষও যথাযথভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিপালন করছেন না। এভাবে চলতে থাকলে হাওরের পরিবেশে প্রতিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মাদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, শিগগিরই টেকেরঘাট এলাকায় প্লাস্টি বর্জ্য অপসারণের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে। পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের জনসচেতনতামূলক কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।




