সিলেটে দুদকের গণশুনানিতে ৪০টি সরকারি দপ্তরের ৭৩টি অভিযোগ নিষ্পত্তি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ২:০৫:০৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: দুদকের গণশুনানিতে ৪০টি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানির শিকার বা সেবাবঞ্চিত সংক্ষুব্ধ জনসাধারণ তাদের অভিযোগ কমিশনের সামনে তুলে ধরেছিলেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্তৃক তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে যথাযথ নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়।
জানা গেছে, হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার হওয়া নাগরিকরা মোট ৭৩টি অভিযোগ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীরা প্রতিকার পেয়েছেন। প্রতিকারের মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, বদলীসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য রয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরীর অভিযোগ:
গণশুনানিতে সশরীরে হাজির হয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের(সিসিক) সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটবাসীর সাথে বৈষম্যের নানা চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কের কাজে ধীরগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি এলজিইডি’র বিভিন্ন রাস্তাঘাট বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরেন। যারা কাজ না করে পালিয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের কথা বলেন। এছাড়া সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানের টিকিটের উচ্চমূল্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানান। জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন উত্থাপিত ইস্যুতে করণীয় তুলে ধরেন।
ভালো একজন এসআই নিয়োগ দেন, যিনি কম খান:
দুদকের গণশুনানিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত না করে হয়রানির অভিযোগ করেন এক ভুক্তভোগী। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানকে।
জবাবে ওসি বলেন, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পরে এই ঘটনা ঘটেনি। এসময় তিনি সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী বলেন-একজন ভালো এসআই (উপপরিদর্শক) নিয়োগ দেন, যিনি কম খান। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন ঘটনার ভুক্তভোগীরা হাততালি দিয়ে দুদক কমিশনারকে বাহবা দেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজে লাইব্রেরিয়ান বরখাস্ত:
সিলেটে দুদকের গণশুনানিতে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠতেই এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিয়ান শেখর দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ দাস জানান, শেখর দাস তাঁর কাছ থেকে চাকরির কথা বলে দুই লাখ টাকা নেন। কিন্তু পরে চাকরি না দিয়ে অর্থও ফেরত দেননি। অভিযোগ শোনার পরপরই দুদক চেয়ারম্যান বরখাস্তের নির্দেশ দিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এছাড়াও, হাসপাতালে টিকিটের দাম বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়া, টাকা ছাড়া শয্যা না দেওয়া, পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ লেনদেন, কম্পোজের দোকানগুলোতে অবৈধ অর্থের লেনদেন, জালালাবাদ গ্যাসের সংযোগে অনিয়ম- সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হয়রানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মু. মাসুদ রানা, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।




