সুনামগঞ্জে ইয়াবা আসক্ত হচ্ছে তরুণরা, চিহ্নিত বিক্রেতা অধরা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ থেকে: সীমান্তিক জেলা হিসেবে সুনামগঞ্জে ভারত থেকে অবাধে আসছে মাদকদ্রব্য। এতোদিন মদ কিংবা গাঁজা মাদকের চোরাচালান রুট দখল করে রাখলেও সম্প্রতি মরণ নেশা ইয়াবা’র দখলে সীমান্ত অঞ্চলসহ জেলা শহর সুনামগঞ্জ। মায়ানমার-ভারত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সুনামগঞ্জ প্রবেশ করছে প্রাণঘাতী এই মাদকদ্রব্য। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গোপন আস্তানা। যেখান থেকে পরিচালিত হচ্ছে এই অন্ধকার ব্যবসা।
ভ্রাম্যমান সেলসম্যানের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে সারা জেলায়। মরণ নেশার কবলে সুনামগঞ্জ শহরসহ গ্রামেগঞ্জের উঠতি বয়সী তরুণেরা। এ নেশাদ্রব্য ছড়িয়ে পড়ছে জেলার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের মাঝেও। নেশা গ্রহণকারীদের তালিকায় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়ে, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও। ইয়াবার নেশার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে অনেক ছেলেমেয়েরা অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। নেশার টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে সংঘটিত হচ্ছে চুরিসহ নানা ধরনের অপকর্ম।
সূত্র বলছে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরে এক বা একাধিক ডিলারের মাধ্যমে ইয়াবার ট্যাবলেট মাদকসেবিদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সেলস-ম্যানদের মাধ্যমে পিস প্রতি ২৫০-৩০০ টাকায় মাদকসেবিদের কাছে পৌঁছে ইয়াবা। শহরের আরফিনগর, বড়পাড়া, কালিপুর, তেঘরিয়া, সরকারি পুকুরের পাড়, উকিল পাড়া,বাঁধর পাড়া, বনানীপাড়া, ধোপাখালি, হাছননগর, সুলতানপুরে রয়েছে মাদকের এক বা একাধিক আস্তানা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মাদকব্যবসায়িদের গডফাদার আসাদুজ্জামান ওরফে পংকজ। শহরে রয়েছে যার একাধিক বিক্রয় কেন্দ্র। মাদক সাম্রাজ্যের এই সম্রাটের নামে রয়েছে ১৮ টি মামলা। মাদকদ্রব্য বিক্রয়সহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবার শুরু করে ব্যবসা। মাদকসেবীদের কাছে পংকজ ‘ইয়াবা পংকজ’ হিসেবে পরিচিত। শহরের আরপিননগর ও বড়পাড়া এলাকায় পৃথক স্থান থেকে ডিলারশীপ ও নিজস্ব এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে রাতারাতি বাড়িগাড়ির মালিক বনেছেন পংকজ। সম্প্রতি একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও অদৃশ্য কারনে ইয়াবা পংকজকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের উপপরিচালক আবুল হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য বিস্তার হচ্ছে। আমরা প্রতি মাসেই অভিযান পরিচালনা করছি। গত মাসেও ৭টি মামলা হয়েছে। গাঁজা, মদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
এদিকে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে পংকজের আরফিননগরের বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে ১৬ মামলার পলাতক আসামী পংকজের বাসা থেকে ১২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, অভিযান পরিচালনাকালে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় পংকজ।
অপরদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন। তিনি বলেন, মাদককে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য মাদকের দালালদের সাথে হাঁটলে সাথে সাথে ছবি তুলে পাঠান। আমি ব্যবস্থা নিবো। মাদকব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধ শিগগির ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।




