গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়
নির্বাচিত হলে তীর খেলা ও মাদক শূন্যে নামিয়ে আনবো, দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাসের অস্তিত্ব থাকবে না : মুক্তাদির
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:৫৬:৪২ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচিত হলে সিলেট অঞ্চলে তীর খেলা বন্ধ ও মাদককে শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সিলেট-১ (সদর ও মহানগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিলেট অঞ্চলে শিল্পায়ন বৃদ্ধি, আধুনিক মৎস্য চাষে অর্থায়ন, কৃষি জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন, সুরমা নদীর ভাঙ্গণরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব প্রদান, আইটি খাতে প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
গতকাল রোববার বিকেলে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি পেশাজীবী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে মতবিনিময়ে আসেন তিনি। জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় পরিচয়ে সন্ত্রাসের কোন অস্তিত্ব থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন কসমেটিক উন্নয়ন নয়, সিলেট নগরবাসীর সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও দীর্ঘ মেয়াদী সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর উপর হামলা প্রসঙ্গ আলোকপাত করে তিনি বলেন, হাদির ওপর পরিকল্পিত হামলা সকল রাজনৈতিক কর্মীর জন্য উদ্বেগের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে অতীতের মত সন্ত্রাস দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী বলে তার মন্তব্য।
সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময়ে খন্দকার মুক্তাদির আরো বলেন, বিগত দেড় দশক ধরে দেশের মানুষ স্বাভাবিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। পরপর ৩ বার দিনের ভোট রাতে হওয়ার মত আজব নির্বাচন হয়েছে। এবার মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় সেটি নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে সরকারের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিএনপি সব সময় আইনের শাসনে বিশ^াসী। অতীতে বিএনপির শাসনামলে কেউ-ই অপরাধ করে দলীয় পরিচয়ে পার পায়নি।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বদর।
মতবিনিময় সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের উন্নয়নের বিষয়ে তার প্রত্যাশা ও পরিকল্পনার বিষয়ে আলোকপাত করে আরো বলেন, সিলেটের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভাব। পাথর কোয়ারী, ব্রিক ফিল্ড ও পরিবহণ খাত ছাড়া সিলেটে বড় কোন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র নেই। এ কারণে সিলেটের তরুণরা বিদেশমুখী হয়ে রয়েছেন। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারী নীতি সহায়তায় সিলেটে নতুন শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি তরুণদেরকে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করা হবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি, স্বল্পমূল্যে বীজ ও সার প্রদান, কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেটের এক ফসলী জমিকে দুই ফসলীতে উন্নীত করেছিলেন। ফলে, সিলেটে উৎপাদন বেড়েছিল, হাজার হাজার একর অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছিল। কিন্তু, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সিলেটের কৃষি খাতের উন্নয়নে কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সিলেটের কৃষির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
সিলেটের নাগরিক সমস্যাগুলো ‘প্রকাশ্য ও চিহ্নিত’ উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নগরীর যে সব স্থানে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে, সেসব স্থানের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। সুরমা নদীর দুই তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গনের সমস্যা নিরসন করা হবে।
‘সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে‘ জানিয়ে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দক্ষিণ এশিয়ার একটি বিমান যোগাযোগের ‘হাব’ হিসেবে গড়ে উঠার দাবি রাখে। পাশর্^বর্তী দেশের সেভেন সিস্টারও এই বিমানবন্দর থেকে সুবিধা নিতে পারবে।
এছাড়া, জরুরী ভিত্তিতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নের কাজ শেষ করাসহ সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ, সিলেটের সাথে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ-কে ‘এ ক্লাস’-এ উন্নীত করা হবে। যোগাযোগের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলেই সিলেটে দেশী বিনিয়োগ আসবে, পর্যটন খাতেরও বিকাশ হবে। সিলেট নগরীতে মাদক ও অনলাইন জুয়াকে চিরতরে নির্মূল করা হবে উল্লেখ করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে পারলেই সিলেট একটি প্রকৃত উন্নত জনপদে পরিণত হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপার্সনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও এডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেটের আহবায়ক ডা. শামিমুর রহমান, সদস্য সচিব ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি পিপি আশিক উদ্দিন আশুক, সাবেক আহবায়ক এডভোকেট নুরুল হক, সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, শাবির সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া প্রমুখ।




