তারেক রহমান সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন : মির্জা ফখরুল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২০:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : আগামী দু-একদিনের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তবে আমার মনে হয়, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান করা সম্ভব হবে। কারণ আমাদের দেশনেত্রী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই শূন্যতা অবশ্যই পূরণ করতে হবে।”
রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় অবস্থিত উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঐতিহাসিকভাবে সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। আমরা আশা করি, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। দেশবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা- তারেক রহমান সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের প্রার্থীরা অত্যন্ত সচেতন ও সজাগ রয়েছেন। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই যতটুকু সম্ভব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।”
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করলে বিএনপি সর্বদলীয় সরকার গঠন করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “সর্বদলীয় নয়। আমাদের একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ঘোষণা রয়েছে- যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছি, তাদের নিয়েই আমরা জাতীয় সরকার গঠন করব।”
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গত এক বছরে দেশে মব ভায়োলেন্স ও মবোক্রেসির একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবাইকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই এর একমাত্র সমাধান।”
বিভিন্ন সংসদীয় আসনে দু’জন করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “১০ থেকে ১২টি আসনে এমনটি হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ব্যাংক ক্লিয়ারেন্সসহ কিছু প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা থাকায় বিকল্প হিসেবে প্রার্থী রাখা হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা হবে না, বিষয়গুলো দ্রুতই নিষ্পত্তি হবে।”
মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, এম এ মালিক, এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে দুপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উড়োজাহাজে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতা–কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন।
সন্ধ্যায় মতবিনিময় সভা শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করেন।




