৩০ বছর শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন শেষে প্রফেসর পান্না বসুর অশ্রুসিক্ত বিদায়
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৫:০১ অপরাহ্ন
লবীব আহমদ :
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর পান্না বসুর অবসরোত্তর ছুটিতে গমন উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের ১০২ নং কক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ বিলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আকমল হোসেন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন প্রফেসর পান্না বসু শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেননি, বরং তার মেধা, শ্রম এবং সততা দিয়ে আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং হাসিখুশি ব্যক্তিত্ব আমাদের প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশকে সবসময় প্রাণবন্ত রেখেছে। তিনি চমৎকার ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ। তাঁর বক্তব্য সবসময়ই চমৎকার ছিল। তিনি কবিতার মতন বক্তব্য দিতেন। ক্লাসে তিনি অত্যন্ত মাধুর্য্যতার সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতেন। তিনি তার কর্মগুণে আমাদের হৃদয়ে যে স্থান করে নিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন অম্লান থাকবে। আমরা তার অভাব অনুভব করবো।
সংবর্ধিত অতিথি প্রফেসর পান্না বসু বলেন, এই মুহূর্তটি আমার জীবনের অন্যতম কঠিন এবং একই সাথে অত্যন্ত গৌরবের। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতার পথ চলার পর আজ আমাকে থামতে হচ্ছে। এই ক্যাম্পাসের প্রতিটা ধূলিকণা, ক্লাসরুমের সেই চেনা ব্ল্যাকবোর্ড আর আপনাদের হাসিমুখগুলোর মায়া কাটিয়ে যাওয়া কতটা কষ্টের, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আমার প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ- আমরা একসাথে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করেছি, অ্যাকাডেমিক উন্নয়নে কাজ করেছি। আপনারা আমাকে শুধু সহকর্মী হিসেবে নয়, বন্ধু এবং স্বজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আপনাদের সাহচর্য আমার কর্মজীবনকে সার্থক করেছে। আমার স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীরা- তোমরাই ছিলে আমার চালিকাশক্তি। ক্লাসরুমে তোমাদের কৌতূহলী চোখ আর নতুন কিছু জানার আগ্রহ আমাকে সবসময় তরুণ রেখেছে। শিক্ষক হিসেবে আমি তোমাদের কতটা দিতে পেরেছি জানি না, কিন্তু তোমাদের কাছ থেকে আমি জীবনকে নতুন করে দেখতে শিখেছি। মনে রাখবে, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়, বরং একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎই হবে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। তোমরা যেখানেই থেকো, দেশ ও মানুষের সেবা করো।
এসময় তিনি আরও বলেন, মানুষ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে হয়তো কখনো কারো মনে কষ্ট দিয়েছি, কিংবা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ বিদায়বেলায় আমার অনুরোধ, আপনারা সেই ভুলগুলোকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি এই প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু স্মৃতি নয়, আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- এমসি কলেজের শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও প্রফেসর পান্না বসুর স্বামী ডা. সব্যসাচী রায়, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর তপতী চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক ও গণিত বিভাগের প্রফেসর মো. গিয়াস উদ্দিন, বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. সাহেদা আখতার, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আঞ্জুমান আরা বেগম, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শেখ মো. নজরুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. ইমতিয়াজ তানভীর, অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর মো শামছ উদ্দিন আহমেদ, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক বিভাগীয় প্রধান মো শামীম আহমেদ।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অঞ্জনা রাণী দে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সহকারী অধ্যাপক জিনি বেগম, মো. জাহেদুজ্জামান, কানন কান্তি দাস, এস.এম. আনোয়ারুজ্জামান।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মুশফিকুর রহমান ও সুমাইয়া আক্তারের যৌথ সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজাউল করিম রাব্বী, আব্দুল বাছিত, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ শাকেল, শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক রুম্মান আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক দোয়েল রায়, মাস্টার্স শেষ পর্বের জাহাঙ্গীর আলম, ঐকতান সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের মুখ্য সম্পাদক লবীব আহমদ, নাঈম হোসেন আখঞ্জী, পূজা দে, সামায়ূন কবীর, রাসেল মিয়া, সন্দীপন চৌধুরী।
শুরুতেই কোরআন তিলাওয়াত করেন- ওলিউর রহমান ও গীতা পাঠ করেন সন্দীপন চৌধুরী।




