দিরাইয়ে পিআইসি গঠনে অনিয়ম, পাউবো কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩০:৫৩ অপরাহ্ন
উবাইদুল হক, দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে : দিরাইয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে বেড়িবাঁধের পাশে থাকা প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামে-বেনামে পিআইসি কমিটি বানিয়ে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। খোদ পাউবোর উপপ্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম অর্থের বিনিময়ে পিআইসি গঠনে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন একটি অডিও রেকর্ডও এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাইয়ুম উপজেলার জগদল ইউনিয়নের পিআইসি কমিটির একজনকে গত বছরের ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা বিল করে দেওয়ার নাম করে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। ওইব্যক্তি এসব বিষয়ে ইউএনও’র সাথে আলাপ করতে চাইলে, আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘স্যারের পারমিশন আছে, আর আগামী এক বছর আমার সিগনেচারে বিল উঠবে অডিটের দায়িত্বে আমি আছি।’
পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাগদল ইউনিয়নের ওই কৃষকের সাথে দৈনিক সিলেটের ডাকের প্রতিনিধির ফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি এ বছর দু’ইটি পিআইসি পেয়েছি। এ জন্য আব্দুল কাইয়ূমকে নগদ টাকা দিয়েছি, তবে কত টাকা দিয়েছি তা ফোনে বলা যাবে না।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাঁধ ঘুরে ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেক বাঁধে অনিয়ম ও অজুহাত দেখিয়ে পিআইসি গঠন থেকে কাজ শুরু পর্যন্ত বিলম্ব করা হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় একই ব্যক্তিকে নামে বেনামে একাধিক পিআইসি দেয়া হয়েছে। আর বিনিময়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে নগদ অর্থ। এমনকি কিছু কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় খোদ পাউবোর কর্মকর্তা ভাগবাটোয়ারা করে পিআইসি দিয়েছেন। উর্ধ্বতন প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির ফলে পাউবোর কর্মকর্তারা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে স্থানীয়রা আরও জানান, প্রতি বছর হাওর বাঁধ নির্মাণ যেন একটা লাভজনক মৌসুমী ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ের কারণে-অকারণে প্রকল্প সাজানো হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অনেক বাঁধে। আর এতে লাভবান হচ্ছে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী রাজনৈতিক ব্যবসায়ী।
উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের বলনপুর এলাকার কৃষক শৈতেন্দ্র তালুকদার বলেন, আমাদের পাশে থাকা ৬৬ নম্বর পিআইসি পাওয়ার জন্য স্থানীয়দের মধ্য থেকে আমরা তিনটি আবেদন করি, কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে ওই পিআইসি হাতিয়ে নেন নওয়াগাঁওয়ের রণবীর বর্মন। যার বাড়ি এবং জমির বাঁধ থেকে অনেক দূরে। এমনকি তিনি এ পিআইসির জন্য আবেদনও করেননি। আমরা এসও-কে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, আপনারা কিভাবে কাজ পাবেন। কোন প্রকার যোগাযোগ করেন না শুধু দূর থেকে কথা বলেন। পরে আমরা মৌখিকভাবে ইউএনও-কে অভিযোগ করলে, তিনি দেখবেন বললে আমরা লিখিত অভিযোগ করিনি। প্রয়োজন হলে লিখিত অভিযোগ করবো।
গত ১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং উপজেলা কমিটির সভাপতি বরাবর অভিযোগ করেন উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন চান্দপুর গ্রামের বাসিন্দা শামছুল ইসলাম (দরাজ মিয়া)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জগদল ইউনিয়নের রাসেল মিয়া ও সুজাত মিয়া বিভিন্ন কৌশলে দুটি পিআইসি বাগিয়ে নিয়েছেন। রাসেল মিয়া বর্ধিত হুরামন্দিরা হাওর উপ-প্রকল্পের কোদালিয়া হতে মনঝুরি পর্যন্ত প্রথম খন্ড ৪৬ নম্বর পিআইসি কমিটির সদস্য সচিব ও তার আপন বড় ভাই সুজাত মিয়া ৪৭ নম্বর পিআইসি কমিটির সভাপতি। সুজাত মিয়া ও রাসেল মিয়ার বাঁধের আশেপাশে হাওরে জমি না থাকায় পিআইসি বাঁধের মাটি ভূমিহীন ডিসি মালিকানাধীন জায়গা থেকে মাটি নিয়ে বাঁধের কাজ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি সনজীব সরকার বলেন, লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হকের সাথে এসব বিষয়ে আলাপ হলে তিনি বলেন, আমি এসও আব্দুল কাইয়ুমকে বলবো আপনার সাথে যোগাযোগ করতে। তাঁর বক্তব্য দিতে বললে তিনি সুনামগঞ্জ আছেন বলে জানান।




