যানজটমুক্ত হবে সিলেট নগরী
পারাইরচক-লালাবাজার ৬ লেন বাইপাস ও ওভার ব্রিজের কাজ এগিয়ে চলেছে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১:০৬:১৫ অপরাহ্ন
জাহাঙ্গীর আলম মুসিক, দক্ষিণ সুরমা থেকে : সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্প কাজের ২য় অংশ দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক পীর হবিবুর রহমান চত্বর থেকে লালাবাজার পর্যন্ত বাইপাস সড়কের কাজ ও ওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মাধ্যমে সিলেট নগরী অনেকটাই যানজটমুক্ত হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড প্রকল্পের এ অংশ বাস্তবায়ন করছে। ১০ কিলোমিটার ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই বাইপাস সড়কে নির্মিত হবে ১৫টি কালভার্ট। এছাড়াও সিলেট-সুলতানপুর সড়কের ওপর সিলাম অংশে একটি ওভার ব্রিজ নির্মিত হবে।
জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কাটছে ॥ শেষ এক কিলোমিটার ভূমি অধিগ্রহণ শনিবার
পীর হবিবুর রহমান চত্বর এলাকায় আগামী শনিবার প্রকল্পের শেষ এক কিলোমিটার জায়গা অধিগ্রহণ করা হবে বলে প্রকল্পের প্রকল্প ম্যানেজার (পিএম) দেবাশীষ রায় সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণের কারণেই মূলত সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে এতোদিন ধীরগতি ছিল। সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম যোগদানের পর জমি অধিগ্রহণের জটিলতা অনেকটাই নিরসন হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী এক বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা এ কর্মকর্তার।
প্রকল্প সূত্র জানায়, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পারাইরচক এলাকার পীর হবিবুর রহমান চত্বরে মেগা দুই প্রকল্পের সংযুক্তি হবে। ঢাকার কাঁচপুর থেকে শুরু হওয়া ঢাকা-সিলেট-৬ লেন প্রকল্প সমাপ্ত হবে পারাইরচকের হবিবুর রহমান চত্বরে।
অপরদিকে, এই চত্বর থেকে খাদিম হয়ে বাঘের সড়ক দিয়ে তামাবিল স্থল বন্দরে গিয়ে সমাপ্ত হবে সিলেট-তামাবিল ৪ লেন প্রকল্প। পারাইরচকে ৮৪৪ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রস্থের একটি রেলওয়ে ও পারাইরচক ওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজের পাইলিং শুরু হয়েছে। ২৬টি খুঁটির ওপর ওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৭৪টি পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইটের কনসালট্যান্ট ইমরান আহমদ। স্থানীয় যানবাহন চলাচলের জন্য সার্ভিস লেনও থাকবে।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে বাহাপুর নামক স্থান থেকে ৬ লেন বাইপাস সড়ক সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ পীর হবিবুর রহমান চত্বর এসে শেষ হবে। ৬ লেন প্রকল্পের সিলেট অংশে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়নার সিনো হাইড্রো ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো বি কর্পোরেশন, ঝিয়াংজো সিটি হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (জেড. জেড. এইচ. সি) চায়না ন্যাশনাল কেমিক্যাল কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি (সিএনসিসিসি) ও তার্কিশ কোম্পানি ইএনইজেড প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে।
ঢাকা-সিলেট ৬ লেন প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ২২০ কিলোমিটার। ডিজাইন অনুযায়ী সড়কের মূল অংশের প্রস্থ ১২১ ফুট হলেও সড়কের জন্য ১৮০ থেকে ২৫০ ফুট ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট ৬ লেন প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। পীর হাবিবুর রহমান চত্বর থেকে খাদিম হয়ে বাঘের সড়ক দিয়ে তামাবিল পর্যন্ত ৪ লেন বিশিষ্ট আধুনিক মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৬ কিলোমিটার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা। ২০২৭-২৮ অর্থ বছরে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, পারাইরচক থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর পর্যন্ত প্রায় ৮শ’ মিটার বর্তমান সড়ককে সম্প্রসারণ করা হবে স্থানীয় যানবাহন যাতায়াতের সুবিধার জন্য সার্ভিস লেন করতে। অত্যাধুনিক এই সড়কের কল্যাণে গোটা এলাকার চিত্রই পল্টে যেতে পারে। বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাসট্রাকচার লিমিটেড, টিসিসিএল ও আব্দুল মোনায়েম কোম্পানি।
সিলেট-তামাবিল ৪ লেন বিশিষ্ট সড়কের পীর হবিবুর রহমান চত্বর থেকে তামাবিল স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রকল্পের কার্যাদেশ হয়ে গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না ন্যাশনাল কেমিক্যাল কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন গ্রুপ কোম্পানি (সিএনসিসি)। যেসব এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে সেইসব এলাকায় বিদ্যমান বৃক্ষ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ইত্যাদি সরানোর কাজ চলেছে।
প্রকল্পের ঢাকা-(কাঁচপুর) থেকে সিলেটের পীর হবিবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত সড়কের মোট দূরত্ব ২২৪.২২৮ কিলোমিটার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণসহায়তায় সাবেক ঢাকা-সিলেট করিডোর উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি।
সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন সিলেটের ডাককে জানান, লালাবাজার বাইপাস থেকে পীর হবিবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত গোটাটিকর মৌজায় এই বাইপাসটি হচ্ছে। পাশাপাশি হবিবুর রহমান চত্বর থেকে তামাবিল জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত যাবে তামবিল হাইওয়ে সড়কটি। প্রকল্পের জন্য আলাদা আলাদা পিএম (প্রজেক্ট ম্যানেজার) রয়েছেন। তারাই প্রকল্পগুলো দেখভাল করছেন বলে জানান এ সওজ কর্মকর্তা।




