সিলেট বিভাগে সড়কে প্রাণ গেলো ৫ জনের
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১৭:০৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি বাসের সংঘর্ষে ২ জন, জকিগঞ্জে মোটরাসাইকলের ধাক্কায় একজন ও সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় একজন ও হবিগঞ্জে একজনসহ সর্বমোট ৫ নিহত হয়েছেন।
গতকাল সকাল ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরে ও সকাল ৭টায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পৃথক এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দশাই হাওলাদার গ্রামের বাসিন্দা এম. মজিবর রহমান (৫৫), সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউপির কাপনখালপার গ্রামের বাসিন্দা বকুল রবিদাস (২৬)। তারা শ্যামলী পরিবহনের বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার। এ ঘটনায় আরো ১০/১২ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জে নিহত বাসচালকের নাম রাকিব হোসেন। তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বেগারিতলা বাজার এলাকার লেয়াকত হোসেনের ছেলে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার রবি মিয়ার ছেলে মুশাহিদ (৩৫), সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার আলামিন (৩৪), নরসিংদীর বেলাব থানার ফারুক (৩৮), একই এলাকার মেহেদী হাসান। বাকি আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল হাসান ভুঁইয়া জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দয়ামীর মাদরাসার সামনে আসলে সিলেট থেকে যাওয়া শ্যামলী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় এনা বাসের পেছনে থাকা আরেকটি বাসও সংঘর্ষের কবলে পড়ে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান হতাহতের বিষয়টি সিলেটের ডাককে নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ওভারটেক করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। দুর্ঘটনায় এনা পরিবহনের বাস চালকও আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ওভারটেকিংয়ের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
খবর পেয়ে ওসমানীনগরের তাজপুর ফায়ার সার্ভিস, থানা ও হাইওয়ে পুলিশ এসে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় উপরোক্ত ২জন নিহত ছাড়াও অন্তত ১২ জন আহত হন।
সুনামগঞ্জের জয়কলস হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন চৌধুরী জানান, গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জ যাচ্ছিল এনা পরিবহনের একটি বাস। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দগঞ্জে ভুইগাঁও এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বাসটির। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। সংঘর্ষে পিকআপ ভ্যানের চালক ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জকিগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জকিগঞ্জের শাহগলী বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক মাদ্রাসা শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের শাহগলী বাজারের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের আহমদ (৯)। সে বারহাল ইউনিয়নের বোরহানপুর গ্রামের তকু মিয়া (কবির)-এর ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদ্রাসা ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল জুবায়েরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে দুর্ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেল আরোহী মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু, ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহীর ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্বজনরা শোকে স্তব্ধ।
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মাধবপুর উপজেলা সদরের তিতাস হাসপাতালের সামনে দ্রুতগামী একটি বাসের চাপায় এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত বিসমিল্লাহ খাতুন উপজেলার লোহাইদ গ্রামের খেলুমিয়ার স্ত্রী। তিনি রাস্তা পারাপারের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী একটি বাস চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিসমিল্লাহ খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।




