শাকসু নির্বাচনের দাবিতে ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২:০৫:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে ফের বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টা থেকে প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে কর্মসূচি পালন করেন এবং আজই চেম্বার আদালতে শুনানি ও ২১ জানুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘হাইকোর্ট না শাকসু, শাকসু, শাকসু’; ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা, মানি না-মানব না’; ‘হাদি ভাই শিখিয়ে গেছে, লড়াই করে বাঁচতে হবে’; ‘সাস্টিয়ানদের ডিসিশন, কালকে হবে নির্বাচন’; ‘আমাদের ডিসিশন, মানতে হবে প্রশাসন’; ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’; ‘শাকসু চাই, শাকসু দাও, নয়তো গদি ছাইড়া দাও’ এসব বলে স্লোগান দেন।
এবিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেনবলেন, আজকের মধ্যেই ২১ তারিখে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা আসতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের কারণে ২২ তারিখ থেকে শাকসু আয়োজনের সুযোগ নেই। তাই আজকে যদি চেম্বার শুনানি না হয়, তাহলে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। ২১ তারিখ নির্বাচন না হলে সাস্টিয়ানরা বসে থাকবে না। কোনো কারণে যদি শাকসু না হয়, এর ভয়াবহতা এ ক্যাম্পাস ছাড়াও জাতীয় অঙ্গনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।
এবিষয়ে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করা হয়েছে। আমরা শুনানির জন্য অপেক্ষায় আছি। চেম্বার জজ আদালত নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে বা বিপক্ষে একটা রায় দিলে তখন একটা ফাইনাল জায়গায় আমরা যেতে পারি। এখন একটা ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন আজকে শুনানি করার জন্য। নির্বাচনের পক্ষে রায় আসলে নির্বাচন হবে আর না আসলে ৪ সপ্তাহ পরে হবে। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা নেই। যেকোনো সময় আমরা নির্বাচন দিতে পারবো। এখন শুধু রায়ের জন্য অপেক্ষা।
উল্লেখ্য, সবকিছু ঠিক থাকলে দীর্ঘ ২৮ বছর পরে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, নানা জটিলতায় এই নির্বাচন বারবার পিছিয়ে যায়। পরে গতকাল সোমবার হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন স্থগিত হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। তারা সোমবার প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে দুপুর ১২ টা থেকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে রাত ১ টায় তাদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে মুক্ত করে দেন।


