জেলা প্রশাসনের ৫টি টিম গঠন
রমজানের শুরুতেই অস্থিতিশীল নিত্যপণ্যের বাজার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:০৭:৪০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: রমজানের শুরুতেই সিলেটে নিত্য পণ্যের দামে পরিলক্ষিত হচ্ছে অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছ ও মোরগের দাম। গরুর মাংস, তরি-তরকারীসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তির দিকে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার নিয়ন্ত্রণে ৫টি টিম গঠন করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে দেশি মাছের সংকট রয়েছে। বাজার অনেকটা নির্ভর হয়ে পড়েছে ফিশারীর মাছের ওপর। বাজারে কিছু দেশি মাছ পাওয়া গেলেও দাম আকাশচুম্বী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাংস ও মাছের দোকানগুলো আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আম্বরখানা, বন্দরবাজার, মদিনা মার্কেট, সুবিদ বাজার ও কাজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাংস ও মাছের দাম রমজানকে সামনে রেখে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি রমজানের শুরুতে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকারভেদে সবজির দামও উর্ধ্বমুখী।
নগরীর বৃহত্তম লালবাজার ঘুরে দেখা যায়, চাহিদা থাকলেও বাজারে মাছ উঠেছে কম। দেশি প্রতি কেজি টেংরা(বড়) ৭০০-৮০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ও শোল মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা, ইলিশ ১২০০-১৮০০ টাকা এবং বাইম প্রতি কেজি ১৫০০-১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা, রুই ৪৫০-৬০০ টাকা এবং কার্ফু প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
লালা বাজারে মাছ কিনতে আসা রাজু মিয়া জানান, সপ্তাহখানেক আগেও তিনি রুই মাছ ৩শ’ টাকা দরে ক্রয় করেছেন। কিন্তু, বুধবার তিনি ফার্মের রুই মাছ ৪৫০ টাকা দরে কিনেছেন। এছাড়া, হাওরের রুই মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ৬শ’ টাকা দরে।
লালা বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, ২/৩ দিন আগেও মাছের দাম অনেক কম ছিল। গত মঙ্গলবার থেকে মাছের দাম কেজি প্রতি ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
কাজির বাজারের মাছ বিক্রেতা রমজান আলী জানান, বাজারে যোগান কম থাকায় দেশী মাছের দাম বেশি। তাদেরকে বেশি দামে মাছ কিনতে হয় বলেই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।
বাজারে মোরগের দামও বেড়ে গেছে। সোনালি মোরগের কেজি শনিবার বিক্রি হয়েছে ৩২০ টাকা কেজি দরে। বুধবার সোনালি মোরগের দাম কেজি প্রতি ৪০ টাকা বেড়ে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রির। ব্রয়লার মোরগ ১৬৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়ে গেছে ১৯০ টাকা কেজি। শাহী ঈদগাহের তামিম পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকার তামিম আহমদ জানান, সোনালি মোরগ বুধবার তিনি ৩৩০ টাকা দরে কিনেছেন। যে কারণে তাকে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারে দেশী মোরগের দাম আকাশছোঁয়া। ৪শ’-৫শ’ গ্রাম ওজনের প্রতিটি মোরগ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’-৬শ’ টাকা দরে। আগে এ ধরণের একটি মোরগের মূল্য ছিল ৩৫০ টাকা। এছাড়া, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহে আগেও গরুর মাংসের দাম ছিল ৭৫০ টাকা।
মোরগ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, খুচরা বাজারে এখন দেশী মোরগ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেসব মোরগ পাওয়া যাচ্ছে-সেগুলোর দাম চড়া। এ কারণে তাদেরকে চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে মোরগ।
নগরীর বন্দরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির মধ্যে বেশি বেড়েছে লেবু, কাঁচা মরিচ ও শশার দাম। লেবুর হালি ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচও ১৫০-২০০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকার কমে শশাও মিলছে না।
রমজান উপলক্ষে প্রতিটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে ক্রেতারা জানান।
অন্যদিকে রমজান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী সংশ্লিষ্ট পণ্যেরও দাম বেড়েছে। আকার অনুযায়ী এক গুচ্ছ কলার দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আপেল ও কমলার দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৪০/৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি দামের ঊর্ধ্বগতি খুচরা বিক্রয়েও প্রভাব ফেলছে।
সিলেট নগরীর টুকেরবাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই রমজানে সাধারণত দাম বাড়ে, এবারো বেড়েছে, তবে দ্রুত বাড়াটা আশংকার।
লাল বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সাহেদ জানান, চাহিদা বেশি, আবার গরুর দামও বেশি। ফলে মাংসের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিম আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মসলা ও নিত্যপণ্যের বাজারেও একই চিত্র। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়ে এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি এখন ২০০ টাকায়।
ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আউলিয়া স্টোরের মালিক হামিদুর রহমান বলেন, আগে প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ২শ’ ছাড়িয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বাজারে সয়াবিনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
আম্বরখানা বাজারের ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, রমজান এলে বাজারে মূল্য বাড়ে কেন তা খতিয়ে দেখা জরুরি। মধ্যবিত্তের সংসার দিশেহারা হয়ে উঠে রমজান আসলেই।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা রাফিন সরকার বলেন, ব্যবসায়ীদের রমজানে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন এ প্রতিবেদককে জানান, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ৫ জন এডিসি’র নেতৃত্বে ৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। এতে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন। বুধবার একটি টিম দক্ষিণ সুরমা এলাকায় অভিযান চালায় বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগীরা, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।




