সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
নগরীর চৌকিদেখীতে প্রবাসী বিধবা নারীর জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:১৩:৪৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : চৌকিদেখী এলাকায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বিধবা নারীর বৈধ মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোছা. লুৎফা বেগম গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
মরহুম ছমির উদ্দিন আহমদ লেচুর স্ত্রী লুৎফা বেগম জানান, গত ২৩ বছর ধরে তিনি পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার স্বামী ২০০৭ সালে ইন্তেকাল করেন। সিলেট সদর থানার আম্বরখানা মৌজার এস.এ. ১১৬ নম্বর দাগের অন্তর্গত জমি তার পরিবার বৈধভাবে ক্রয় ও দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে। মূল মালিকদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা পর্যায়ক্রমে তার পূর্বপুরুষদের কাছে হস্তান্তর হয়। পরবর্তীতে আপস বাটোয়ারা ও দলিল অনুযায়ী তার স্বামী এবং পরে তিনি নিজ নামে জমির অংশ ক্রয় করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ এবং সিটি কর্পোরেশনের কর পরিশোধসহ প্রকাশ্যে ভোগদখল করে আসছেন। এলাকাবাসীর কাছেও তারা জমির বৈধ মালিক ও দখলদার হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু সাম্প্রতিক বি.এস. জরিপে তাদের অজ্ঞাতে প্রায় চার শতক জমি নালিশা দাগভুক্ত করে তার ভাসুরের সন্তানদের নামে রেকর্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদের মধ্যে রয়েছেন সাহেদ আহমদ টিপু, ইজ্জত আহমদ এপলু, জাহেদ আহমদ বিপলু, ফরিদা জাহান, ফাহমিদা জাহান ও রাজিয়া খাতুন। তার দাবি, ওই জমিতে তাদের কখনও কোনো স্বত্ব বা দখল ছিল না।
লুৎফা বেগম আরও জানান, ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ভাঙচুরের মিথ্যা মামলা করা হয়। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করেন এবং ২০১৯ সালে দেশে এসে সামাজিক সালিশে অংশ নেন। সালিশ বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত হয় এবং তার মালিকানার বৈধতা স্বীকার করা হয়। তবে সালিশের পর অজ্ঞাত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে বি.এস. খতিয়ানের জাবেদা নকল সংগ্রহ করে জমির রেকর্ডে অসঙ্গতি জানতে পেরে তিনি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সিলেটে রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা দায়ের করেন। ২০২৩ সালে দেশে এসে তিনি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আদালত সাহেদ আহমদ টিপুর বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বলে তিনি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় সত্ত্বেও গত ৫ ফেব্রুয়ারি তার নামে নতুন করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি ভাঙা ঘর মেরামতের সময় পুলিশ উপস্থিত হয়ে নোটিশ প্রদর্শন করে। এ সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। লুৎফা বেগম দাবি করেন, অতীতেও তার স্বামীর সম্পত্তি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি এবং বিদেশে অবস্থানকালে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।




