ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা হামলায় পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ মার্চ ২০২৬, ৬:১৬:০০ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জেরে হঠাৎই ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টি প্রদেশে এ হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছেড়েছে তেহরান।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে যৌথ এ হামলায় নিহত ও আহতের সর্বশেষ এ তথ্য ইরানের মেহের নিউজকে জানিয়েছেন ইরানের রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র মোজতবা খালেদি।
রেড ক্রিসেন্টের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, রেড ক্রিসেন্টের ২২০টিরও বেশি দল হামলার স্থানগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে।
তারা এই অভিযানকে ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর ইতিহাসের বৃহত্তম সামরিক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বেশ কয়েকটি স্থানে প্রায় ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এই হামলার পর চুপ করে বসে নেই ইরান। তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়া শুরু করেছে তারাও। ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো আঘাত হানছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পাল্টা হামলার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইডিএফের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঢেউ আমাদের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী এই হুমকিগুলো প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে।
আইডিএফ আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়, তাই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে জনগণকে অবিলম্বে আইডিএফের সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে এখন মুহুর্মুহু সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের এক বিবৃতিতে হুঙ্কার ছেড়ে বলেছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর ‘‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’’ পরিণত হবে।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহƒত সব স্থাপনাও আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের হরমোজগান প্রদেশে দুই হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমোজগানের মিনাব ও জাস্কে পৃথক হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস। এর মধ্যে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়েই নিহত হয়েছে ৮৫ জন শিক্ষার্থী।
হরমোজগান মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রধানের বরাত দিয়ে ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, পৃথক ওই হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত ও ৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
মিনাব শহরের বিদ্যালয়টিতে ১৭০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। সেখানে গতকাল সকালে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হতাহতের এই সংখ্যাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানে জিমনেসিয়ামে হামলা, নিহত ১৫ জনের বেশি
ইরানের লামেন্দ শহরের একটি জিমনেসিয়ামে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলায় ১৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি এ কথা জানিয়েছেন।
ফারসের খবরে বলা হয়, ১৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলার সময় শিশুরা খেলছিল এবং অনেকেই জিমনেসিয়ামে ব্যায়াম করছিলেন।
আল জাজিরা হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি।
আমিরাতের দুবাইয়ে ৪ জন আহত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এলাকায় এক ‘ঘটনায়’ চারজন আহত হয়েছেন। দুবাই সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কিভাবে ওই ‘ঘটনা’ ঘটেছে তা উল্লেখ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুবাই মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে জরুরী বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। চার জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দুবাইয়ের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু দেখা যায়। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
কাতারের রাজধানী দোহায় বিকট বিস্ফোরণ
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কাতারের রাজধানী দোহায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কিছু জানা যায়নি।
হামলার মধ্যেই তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই তেহরানের রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলিবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন ইরানিরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা দেখা যায়। কেউ কেউ দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি নিয়ে যোগ দেন বিক্ষোভে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নারী-শিশু উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়।
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ‘নিহত’
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তিনটি সূত্রের বরাতে গতকাল শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্র ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার নিহতের খবর জানিয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা সকালের হামলায় বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার ও ইরানের গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন। সকাল থেকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। একপর্যায়ে হামলায় যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
হামলার লক্ষ্য ছিল ইরান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করা। তবে, হামলার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আমরা হয়ত কয়েকজন কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু এটি বড় সমস্যা নয়।
ইরানের হামলায় ভয়ে বাঙ্কারে লাখ লাখ ইসরায়েলি
গতকাল শনিবার সকালে ইসরায়েল জুড়ে বেজে ওঠা সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে বর্তমানে পুরো অঞ্চল এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানকে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষা দমনের একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ইরানের বেশ কিছু কৌশলগত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
জানা গেছে, শনিবার সকালে সাবাত পালন করছিলেন ইসরায়েলের ইহুদিরা, ঠিক তখনই বিকট সাইরেন পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। গত অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশটির মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছিল। কিন্তু আকস্মিক এই সতর্কবার্তা কোটি কোটি মানুষকে ঘুম থেকে উঠে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য করেছে। প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনী এই সাইরেন বাজিয়েছিল জনগণকে আসন্ন ইরানি পাল্টা হামলার জন্য সতর্ক করতে। এর কিছু সময় পরেই খবর আসতে থাকে যে, ইরান থেকে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে এই হামলার প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে অত্যন্ত কঠোরভাবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের ওপর চালানো ‘বর্বর’ হামলার যোগ্য জবাব দিতেই তারা কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। যদিও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে, তবুও কিছু রকেট খোলা জায়গায় আঘাত হেনেছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা আঁচ করে ইসরায়েলের হাসপাতালগুলো তাদের জরুরি বিভাগগুলোকে ভূগর্ভস্থ বা সুরক্ষিত বাংকারে সরিয়ে নিয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, জীবন রক্ষাকারী অপারেশন এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের নিরাপদ বাঙ্কারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তেল আবিব এবং জেরুজালেমের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সাধারণ রোগীদের অনুরোধ করা হয়েছে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে না আসতে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বড় ধরণের হতাহতের ঘটনা মোকাবিলায় তারা সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের চিত্র এখন অনেকটাই ভিন্ন। যেখানে সবসময় মানুষের কোলাহল থাকত, সেখানে এখন শ্মশানের নীরবতা। যারা পুরনো অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন এবং যাদের নিজস্ব কোনো সুরক্ষিত রুম নেই, তারা এখন মেট্রো স্টেশন বা ভূগর্ভস্থ পার্কিং লটগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ দেখা গেছে। মাটির নিচের এই অস্থায়ী আশ্রয়স্থলগুলোতে মানুষ একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং অনেকে মিলে প্রার্থনা করছেন যেন দ্রুত এই বিভীষিকার অবসান ঘটে।
গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলে একজন প্রৌঢ় ব্যক্তি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট গর্তে পড়ে সামান্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর এখনো পাওয়া যায়নি।
হামলার জবাবে যা করতে পারে ইরান
‘এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘লায়নস রোর’নামে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর বিপরীতে পাল্টা আঘাত হানছে ইরানও।
ইরানের গণমাধ্যম ইরনাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে খামেনি সরকার, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীসহ (আইআরজিসি) দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) এ পর্যন্ত কী ধরনের জবাব দিচ্ছে ও দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পরই পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরান।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’।
ইতোমধ্যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ৫টি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছে।
পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্র লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে ইরান।
বার্তাসংস্থা এপি জানায়, গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে ইরান। তবে এ যুদ্ধ থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে এবং গত ৮ মাসে ক্ষতি কাটিয়ে পাল্টা হামলার প্রস্তুতিও নিয়েছে দেশটি।
ন ঘাঁটি ও সমুদ্রে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত কঠিন নয়।’
ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযান চালানোর আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা ছিল কেবল বিষয়টিকে আড়াল করার জন্য।
মেদভেদেভ বলেন, ‘শান্তির দূত আবারও তার আসল চেহারা দেখিয়েছে। ইরানের সঙ্গে সব আলোচনা ছিল একটি আড়াল মাত্র। এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ ছিল না। বাস্তবে কেউ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়নি।’
চীনের প্রতিক্রিয়া
ইরানে চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পর এবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্বকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে।
গতকাল শনিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত। বেইজিং সব পক্ষকে উত্তেজনা এড়াতে এবং পুনরায় সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছে।
ইরানে ট্রাম্পের হামলা ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’, বললেন মার্কিন সিনেটর
মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে মার্কি ইরানে ট্রাম্পের সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে মার্কি বলেন, এই হামলা কংগ্রেস অনুমোদিত নয়। এটি সমস্ত আমেরিকানদের জন্য বিপদ বয়ে আনবে।



