স্বাস্থ্যখাত
দক্ষ নার্স ও জনশক্তিই আগামীর চালিকাশক্তি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮:০১ অপরাহ্ন
জাহাঙ্গীর হক :
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত বর্তমানে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে আমাদের অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, তবুও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি বড় বাধা রয়ে গেছে। দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং পেশাদারিত্বের ঘাটতি। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। এই জনশক্তিকে যদি সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নার্স এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত আমূল বদলে যাবে।
নার্সিং পেশাকে কেবল ‘সেবা’ হিসেবে না দেখে একটি ‘উচ্চতর বিজ্ঞান’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাধারণ ডিপ্লোমার পাশাপাশি নিচের বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া জরুরি :
স্পেশালাইজড নার্সিং : আইসিইউ, কার্ডিওলজি, অনকোলজি (ক্যান্সার) এবং ডায়ালাইসিস সেবায় নিয়োজিত নার্সদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এতে জটিল রোগীদের চিকিৎসায় ভুলের মাত্রা কমবে।
কমিউনিকেশন স্কিলস ও এথিক্স : রোগীদের সাথে ব্যবহারের মানোন্নয়ন এবং সহমর্মিতার সাথে সেবা দেওয়ার জন্য মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
নার্স প্র্যাকটিশনার মডেল : গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ডাক্তার পাওয়া কঠিন, সেখানে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সরা প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে পারেন।
বিশাল জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর : বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে স্বাস্থ্যখাতে যুক্ত করার জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট : আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতি পরিচালনা, এক্স-রে, এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান করার জন্য পর্যাপ্ত এবং দক্ষ টেকনোলজিস্ট তৈরি করতে পারলে রোগ নির্ণয়ে সঠিকতা এবং গতি বাড়বে।
কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক : তৃণমূল পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের নিয়মিত ‘রিফ্রেশার ট্রেনিং’ বা হালনাগাদ তথ্য প্রদান করলে গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার : ২০২৬ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশে নার্সদের প্রশিক্ষণে সিমুলেশন ল্যাব এবং এআই -এর ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
সিমুলেশন ল্যাব : সরাসরি রোগীর ওপর পরীক্ষা না করে কৃত্রিম মানবদেহের মাধ্যমে জরুরি অবস্থায় করনীয় সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া।
টেলি-মেডিসিন ও ই-লার্নিং : প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মীরা ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি শিখতে পারেন।
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি : যদি আমরা আমাদের নার্সদের বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করতে পারি, তবে তারা বিদেশে গিয়ে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এতে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন কেবল বড় ভবন বা দামী যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি নির্ভর করে সেই দক্ষ হাতের ওপর যারা সেবা প্রদান করেন। আমাদের বিশাল জনশক্তিকে যদি সঠিক প্রশিক্ষণে শিক্ষিত করা যায়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
লেখক : যুক্তরাজ্য প্রবাসী।



