সিলেটে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ততা শুরু
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মার্চ ২০২৬, ৭:২০:৫২ অপরাহ্ন
আহমাদ সেলিম
ঈদ মানেই উৎসব। সেই উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসছে। ঈদকে সামনে রেখে কয়েকশত বছরের পুরনো নগর সিলেট আলোকসজ্জায় সেজেছে। ঈদের সাথে এই পরিবর্তন, রঙিন আলো-ঐতিহ্যেরই অংশ। ঝলমল রাতের সাথে ব্যবসাও আশানুরূপ হচ্ছে। পনের রোজার পর এই ব্যবসা দিগুণ হবে-এমন আশা ব্যবসায়ীদের।
ঈদকে সামনে রেখে বিপণীবিতানে মানুষের মুখরতা, নগরে যানজট-বাঙালি জীবনের চিরাচরিত ঐতিহ্য। যে নারী খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি, তিনিও ঈদের কেনাকাটা করতে বাইরে পা রাখেন। সাথে নিয়ে আসেন কোলের শিশু, পরিবারের সদস্যদের। সেই মুহূর্তের ঘন্টাধ্বনি বেজে উঠছে। অনেকে নিরিবিলি কেনাকাটা করছেন পছন্দের সময়ে। রোজা রেখে দিনেরবেলা, আবার কেউ কেউ ইফতার শেষ করে বের হচ্ছেন।
পছন্দের পোশাক পেতে আরেক ঝামেলা। এর জন্য ছুটাছুটি করতে হয়। এক বিপণীবিতান থেকে আরেক দোকানে যেতে হয়। এই ছুটাছুটি, এই ঘুরাঘুরিতে যেন আনন্দ আছে। সেই আনন্দ ঈদ উৎসবেরই অংশ।
শুধু কি শহর? ঈদের কেনাকাটা করতে অনেক উপজেলার মানুষও সিলেটে আসছেন। অভিজাত বিপণীবিতানে ভিড় করছেন। ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি প্রস্তুতিরও ঘাটতি নেই ব্যবসায়ীদের। অভিজাত সব ফ্যাশন হাউজে কিংবা বিপণীবিতানে রয়েছে নতুনত্বের সমাহার। সবাই দোকানে দোকানে সেই পশরা সাজিয়ে রেখেছেন। তবে তরুণ তরুণীরা বেশী ঝুঁকছেন অভিজাত ফ্যাশন হাউজগুলোতে। বুটিক হাউজগুলোও তাদের শো-রুমে নতুন নতুন আকর্ষণীয় পোশাক তুলেছে। যারা ফ্যাশনে ব্যতিক্রম, সবসময় আলাদা কাপড় খুঁজেন-তারা এসব ফ্যাশন হাউজে ছুটে যান।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া কিংবা আশপাশের ফ্যাশনহাউজে মানুষের ভিড়। মাহা ফ্যাশন হাউজে কথা হয় সেজুতির সাথে। বলেন, যে কয়টি কিনেছি, সবগুলো সুতির পোশাক।’ আরমান সুহেল পরিবার নিয়ে এসেছেন আড়ংয়ে। ‘ঋতুর সাথে সমন্বয় রেখে অধিকাংশ পোশাক কিনার কথা বলেছেন তিনি।’
শাড়িতে বাংলার নারীরে সবচেয়ে বেশি মানায়। কুমারপাড়ায় দেশী-দশ থেকে স্ত্রী’র জন্য জর্জেট কাপড় কিনেছে ফরিদ আহমদ। বলছেন, ‘বেশী ঘুরাঘুরি করতে হয় শিশুর পোশাকের জন্য।’ দেশী-দশের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ‘শাড়ির মধ্যে তাঁতের শাড়ি, সুতির শাড়িতে ব্লক বা কাজ, কোটা, শিফন চলছে বর্তমানে। এছাড়া কাতান, জুট কাতান, সিল্ক, হাফসিল্ক শাড়িও পছন্দ করছেন ক্রেতারা। টাঙ্গাইল সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক, জামদানী বরাবরের মতো এবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা সময় গড়ানোর সাথে ব্যবসা আরো ভালো হবার প্রত্যাশার পাশাপাশি পৃথিবীরজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবেরও আশঙ্কা করছেন।



