পর্যটক বরণে প্রস্তুত শ্রীমঙ্গল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মার্চ ২০২৬, ৩:২৫:১৭ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণীয় শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শুরু হয়েছে ভ্রমণপ্রেমীদের পদচারণা। চা-বাগান, বনাঞ্চল, হাওর ও টিলায় ঘেরা এই অঞ্চল ইতোমধ্যেই পর্যটক বরণে প্রস্তুতি নিয়েছে হোটেল রিসোর্টসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো। প্রতিবছর ঈদেই বিপুলসংখ্যক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের সমাগম হয় শ্রীমঙ্গলে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের বাইরে রাধানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে ঈদের ২২ থেকে ২৪ তারিখের জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ আগেই সংরক্ষিত। এই সময়টিকে ব্যবসায়ীরা ঈদ ভ্রমণের ‘পিক টাইম’ হিসেবে দেখছেন। বিপরীতে, শহরের ভেতরের হোটেলগুলোতে বুকিং তুলনাম‚লক কম প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদকে ঘিরে বাকি দিনগুলোতেও ধীরে ধীরে বুকিং বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত শতভাগ রুম বুকড হয়ে যাবে। এ ছাড়া এক সপ্তাহের ছুটিতে পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসজুড়ে প্রায় পর্যটকশ‚ন্য ছিল শ্রীমঙ্গলে। পর্যটকের অভাবে স্থবির হয়ে পড়ে স্থানীয় পরিবহন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা। তবে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আবারও আশায় বুক বাঁধছেন চাঁদের গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ীরা। পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন করে সাজানো হয়েছে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র এবং হোটেল-রিসোর্ট। পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য পাঁচতারকা হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে নানা আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে ইতোমধ্যে আগাম বুকিংয়ের চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, ‘ঈদের সময়ে সাধারণত বিদেশি পর্যটক খুব একটা আসেন না, তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আগমন বেশি থাকে। বরাবরের মতো এবারও ঈদকে ঘিরে রিসোর্টটিতে বেশ ভালো বুকিং হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের বুকিং প্রায় শতভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে।’
বালিশিরা রিসোর্টের পরিচালক (পরিচালনা ও প্রশাসন) জাহানারা আক্তার বলেন, ‘আগামী ২১ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, গতবারের তুলনায় এবার আরো বেশি পর্যটক আসবেন এবং ব্যবসাও ভালো হবে।’
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ জানান, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন বন্ধের পর থেকে একেবারে পর্যটক নেই। সাধারণত ঈদের দিন পর্যটকরা খুব বেশি আসেন না, তবে ঈদের একদিন পর থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। তবে মোটামুটি ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করা যাচ্ছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ওসি মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আমাদের টহল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকবে। জেলা পুলিশের সমন্বয়ে উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।



