মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫ বাংলাদেশি নিহত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ মার্চ ২০২৬, ২:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও প্রবাসী দেশে ফেরানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোশারফ হোসেনের মরদেহ আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশে আসে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এ পর্যন্ত আমরা পাঁচজন বাংলাদেশি ভাইকে হারিয়েছি। আমরা সবার পাশে আছি। বর্তমানে যুদ্ধাবস্থায় দেশগুলোতে বাংলাদেশি ভাইবোনেরা আছেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। তাঁদের সুরক্ষা করার জন্য আমরা যা যা করার করব।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের মিশনগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারা যেন ভালোভাবে থাকতে পারে, সেটা দেখার চেষ্টা করছে। আমরা আশা করব, এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটবে। বাংলাদেশ চায়, এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটুক। বাংলাদেশ চায় কূটনীতি এবং আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হোক।’
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখানে এসেছি। আমরা যুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসীদের পাশে ছিলাম। আমরা প্রবাসীদের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমাদের যে ভাই লাশ হয়ে ফিরে এলেন, তাঁর পরিবারের জন্য আমরা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে দেব। তাঁর দুই বাচ্চাদের পড়ালেখার দায়িত্ব প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় নেবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চাকরি ছেড়ে দেশে আসা প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার করবে কি না—জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘তারা আসার পর আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। অনেক সময় তারা ফিরে যেতে চাইবে। তারা ফিরতে চাইলে আমাদের যা যা করার করব। যেভাবে আমরা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করেছি, সেভাবে তারা যদি কর্মসংস্থানে ফিরে যেতে চায় আমরা সহযোগিতা করব। আমাদের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
এ সময় মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বাড়িতে মরদেহ নেওয়ার খরচ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব প্রবাসীর বিএমইটির কার্ড রয়েছে, তাঁরা আরও ১০ লাখ টাকা পাবেন বলেও জানান তিনি।
৮ মার্চ সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি মোশারফ হোসেন নিহত হন। ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে চালানো ওই হামলায় মোশারফসহ মোট তিনজন প্রাণ হারান। শুক্রবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে মোশারফ হোসেনের মরদেহ সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (এসভি ৮০৬) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে মোশারফের পরিবারের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
নিহত মোশারফ হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরে। তিনি উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের মো. সুরজত আলীর ছেলে। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী টাঙ্গাইলের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কাছে মোশারফের মরদেহ হস্তান্তর করেন।



