গোয়াইনঘাটে অবৈধ ইট ভাটা স্থাপন ও কৃষি জমি খনন করে পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিবাদে মানববন্ধন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ৮:২৮:১৭ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : সিলেটের গোয়াইনঘাটে পরিবেশ বিধ্বংসী ইট ভাটা, অবৈধ কৃষি জমি খননের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন এলাকাবাসী। রোববার সকালে উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পেকেরখাল গ্রামের সালুটিকর-গোয়াইনঘাটে সড়কে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন তারা। পরে তারা সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের কাছে অভিযোগ দেন। এর আগে গত ৯ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বরাবরে তারা অভিযোগ দেন।
গ্রামের মুরব্বি আজির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড মেম্বার দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, আব্দুস সালাম, তোতা মিয়া, নুরুল হক, আলী হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের গ্রামের মানুষ আমরা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। সিলেট শহরের অধিবাসী মো. আতিক হোসেন আমাদের গ্রামে কিছু কৃষি জমি কিনে সেগুলো খনন করে ইটভাটা করতে চাইছেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট কৃষিজমি খনন করে আশপাশের জমিগুলোও তিনি হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় গ্রামবাসী এর প্রতিবাদ করলে তিনি চাঁদাবাজীর মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এখন গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি জোর করে অনেকের জমিও দখল করার চেষ্টা করছেন। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবরেও অভিযোগ করেছি। অবৈধভাবে যাতে আমাদের কৃষিজমি খনন করে কৃষিজমি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তারা আরও বলেন, আমাদের গ্রামের পূর্ব পাশের ফসলী জমি থেকে, কৃষি জমি নষ্ট করে অতিরিক্ত গভীরভাবে খনন করে ইট ভাটার জন্যে মাটি স্তুপ করে রেখেছে এবং গ্রামের ভোগদখলীয় খাস জায়গা দিয়ে ইট ভাটার রাস্তা নির্মাণ করতে চাচ্ছে। এগুলোর প্রতিবাদ করতে গিয়েই নিরীহ গ্রামবাসীকে মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। আমরা এই পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। নাহলে গ্রামবাসী সহ এই এলাকাবাসীকে নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।
এবিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। আমরা দেখতেছি। এভাবে কেউ পরিবেশের ক্ষতি করতে পারবে না। আমরা তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সিলেট শহরের অধিবাসী মো. আতিক হোসেন বিগত কয়েক মাস ধরে আমার এবং আমাদের গ্রামবাসীর ক্ষেতের জমির লগ্ন ফসলী জমিতে ইট ভাটা দেওয়ার জন্য বড় বড় গর্ত করে মাটি উত্তোলন করে উঁচু টিলার মত করে মাটি জমিয়ে ধান্য ফসলের জমি নষ্ট করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য হুমকির আশঙ্কা সৃষ্টি করে এবং আমাদের ফসলী জমি গর্ত করার কারণে ধসে পড়ে ক্ষতি করতে থাকলে আমরা প্রথমে তাকে মৌখিকভাবে তার এহেন ক্ষতিকর কাজ হতে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করলে সে আমাদের কথা না মেনে পরিবেশের ক্ষতি করে মাটি উত্তোলন করতে থাকলে আমরা স্থানীয় উপজেলার নির্বাহী অফিসার বরাবরে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেই। এরপরও সে উক্ত ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত না থেকে পরিবেশের ক্ষতি করে ফসলী জমি নষ্ট করে মাটি উত্তোলন অব্যাহত রাখে। উপরোক্ত ধনাঢ্য আতিক হোসেন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে আমার এবং আমাদের গ্রামবাসীর ফসলের জমি নষ্ট করে পরিবেশের ক্ষতি করে ইট ভাটা তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার এরূপ অন্যায় কার্য দ্বারা পরিবেশের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং আমাদের শতাধিক বিঘা ফসলের জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় উক্ত আতিক হোসেনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক নতুবা পরিবেশের এবং গ্রামবাসীর মারাত্মক ক্ষতির স্থল।
অভিযোগে উপরোক্ত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আতিক হোসেন যাতে আমাদের ফসলী জমি নষ্ট করতে না পারেন এবং ইট ভাটা তৈরি করতে না পারেন এবং পরিবেশের ক্ষতি করতে না পারেন সেমর্মে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করা হয়।




