বর্ণিল আয়োজনে এমসি কলেজে মোহনার বসন্ত উৎসব
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৮:১৭ অপরাহ্ন
বর্ণিল আয়োজনে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে বসন্ত উৎসব করেছে ‘মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন’। প্রতিবারের ন্যায় এবারও দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে বসন্ত বরণ উৎসব উদযাপিত হয়। এটি এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে মোহনার ১৮ তম বসন্ত বরণ উৎসব। মঙ্গলবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামের পাশে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এমসি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ।
এসময় বক্তব্য রাখেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ বেগম, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকসন দাশ।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোহনার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন উজ্জ্বল।
উদ্বোধনের শুরুতে বক্তারা বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোহনা সেই দায়িত্বটি প্রতিবারই অত্যন্ত সফলভাবে পালন করে আসছে।
মোহনার বর্তমান কার্যকরী কমিটির সহসভাপতি বিশ্ব মঙ্গল দাসের সভাপতিত্বে ও সাবেক সভাপতি শাহ রাকিবুল হাসান রাফি ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হুমায়রা প্রমির যৌথ সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন- কলেজের সংস্কৃত বিভাগের প্রফেসর সুনীল ইন্দু অধিকারী, অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ফৌজিয়া আজিজ, সহযোগী অধ্যাপক জেবিন আক্তার, শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক অগ্রাতা সৌরভ, মোহনার সাবেক সভাপতি জুবায়ের আহমেদ রাকিব, অনবদ্য সদস্য সায়েম আহমেদ চৌধুরী।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজীব হোসাইন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান, এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক রুম্মান আহমেদ তালুকদার, এমসি কলেজ ছাত্রফ্রন্টের দোয়েল রায়, এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. মুছলেহ উদ্দিন মুনাঈম।
এদিন বাসন্তী রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সেজে তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। সকাল থেকেই কলেজের অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মোহনার শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে “আহা, আজি এ বসন্তে” গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বৈচিত্র্যময় সব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে মোহনার সদস্যরা পরিবেশন করেন সমবেত সঙ্গীত, সলো গান, একক গান, দলীয় নৃত্য, দ্বৈত নৃত্য, নাটিকা, কোরিওগ্রাফি, আবৃত্তি, ধামাইল গান, র্যাম্প শো।
এদিন বিকেলের পড়ন্ত রোদে লোকগানের সুরের মূর্ছনায় শেষ হয় এবারের বসন্ত বরণ উৎসব। পুরো ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয়েছিল এক টুকরো বাসন্তী উৎসবে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনে এক দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি রেখে গেছে।



