সিয়ানাহ ট্রাস্টের মতবিনিময় সভা
আবাসিক হোটেলে আসা বোর্ডারদের তথ্য পুলিশ ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে : পুলিশ কমিশনার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১১:১৩ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম বলেছেন, সিলেট হলো ওলি-আউলিয়াদের শহর। এ শহরকে পবিত্র রাখতে হলে সামগ্রিক শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, আবাসিক হোটেলগুলোতে আসা বোর্ডারদের তথ্য সঠিকভাবে যাচাইয়ের জন্য ‘জিনিয়া অ্যাপ’ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে গেস্টের তথ্য পুলিশ ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফাই হবে। ফলে এটা অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রোববার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কনফারেন্স হলে সিয়ানাহ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘পুণ্যভূমি সিলেটের পবিত্রতা রক্ষায় হোটেল মালিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ.) মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা আসজাদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কোনো হোটেলে নারী-পুরুষ একসঙ্গে প্রবেশ করলে তারা স্বামী-স্ত্রী কিনা, সেটা যাচাই করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। প্রমাণপত্র যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে রুম বরাদ্দ না দিয়ে প্রয়োজনে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ খুবই তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট নগরীর কয়েকটি হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় সেগুলো সিলগালা করা হয়েছে।
সিয়ানাহ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাদিকুর রাহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শামীমাবাদ মাদরাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, কাজিরবাজার মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, দরগাহ মাদরাসার শিক্ষক মুফতি রশীদ আহমদ, সিয়ানাহ ট্রাস্টের নির্বাহী সদস্য মুফতি দানিয়াল মাহমুদ তাকওয়া, নয়াসড়ক জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বেলাল আহমদ এবং সিলেটের বিভিন্ন হোটেলের প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া পুলিশ একা কখনো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। সিলেটে এসে যেসব উদ্যোগ নিয়েছি, সর্বক্ষেত্রে নাগরিকদের সহযোগিতা পেয়েছি। এর ফলেই অবৈধ যানবাহন, ফুটপাত দখলসহ নানা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলাম হালাল ব্যবসাকে উৎসাহিত করেছে এবং অনৈতিক ব্যবসাকে হারাম ঘোষণা করেছে। হোটেলে অনৈতিক কার্যকলাপের সুযোগ দেওয়া মানে নিজের ব্যবসাকে হারাম পথে পরিচালিত করা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ বলেন, সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.)এর স্মৃতি-বিজড়িত শহর। হোটেল মালিকদের উচিত পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। ব্যবসার পাশাপাশি অশ্লীলতা রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। প্রশাসনের ভয়ে নয়, আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। হারাম আয়ের প্রভাব ইহকাল ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর; এমন উপার্জনের প্রতিক্রিয়ায় নিজের সন্তানরাও বিপথগামী হতে পারে। তাই প্রতিটি হোটেলকে অশ্লীলতামুক্ত রাখতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিয়ানাহ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুফতি জিয়াউর রহমান। তিনি নগরীতে অশ্লীলতা ও অপরাধ প্রতিরোধে হোটেল মালিকদের প্রতি কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।




