বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়
শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে সিলেটের ঈদের বাজার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মার্চ ২০২৬, ৩:৩২:১৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে সিলেটের ঈদের বাজার। বিপণিবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে সেহেরির আগ পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। ফুটপাত থেকে অভিজাত শপিংমল, মার্কেট ও ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে চলছে বেচাকেনার ধুম। অন্যদিকে, মানুষের চাপ মার্কেট বিপণিবিতান মাড়িয়ে সড়কে বেড়েছে। এতে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজটের। যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার বিকালে-রাতে আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, নাইওরপুল, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া, দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে ধনাঢ্য শ্রেণির কেনাকাটার শপিং খ্যাত কুমারপাড়া, নয়াসড়ক ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্যাশন হাউস শো-রুমগুলোতে অনেকেই ভিড় করছেন। তবে বেশিরভাগ অভিজাত শ্রেণির মানুষেরা শবে কদরের আগের দিন পর্যন্ত কেনাকাটা শেষ করেছেন। তবে লাইফ স্টাইল পণ্যের অন্য শোরুমগুলোতে এখন ভিড় করছেন ক্রেতারা। জুতার ব্র্যান্ড এপেক্স, বাটা, ভাইব্রেন্ট, বে, ওয়াকার, কসমেটিক ব্র্যান্ড বিডি বাজেট, পার্সোনাসহ বিভিন্ন শোরুমে এখন ভিড় করছেন ধনাঢ্য শ্রেণির লোকজন।
এদিকে, শেষ মুহূর্তে নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তের শপিংমল খ্যাত হাসান মার্কেট, মধুবন মার্কেট, শুকরিয়া মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। এসব এলাকায় শেষ মুহূর্তের ঈদ বাজার যেন এখন এক উৎসব। এসব মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের পর থেকে ভিড় করছেন ক্রেতারা। চাঁদ রাত পর্যন্ত এসব মার্কেটে কেনাকাটা চলবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
হাসান মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা মনির উদ্দিন বলেন, কেনাকাটা অনেকটা শেষ হয়ে গেছে। মেয়েরা একটু প্রসাধনী কিনবে, এর জন্য নিয়ে আসা।
এ বছর মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। শেষ সময়ে এসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকছে না।তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত ক্রেতার চাপ ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন জানান, এবার প্রায় সবারই ভালো ব্যবসা হচ্ছে। কারণ ১২ ফেব্রæয়ারি নির্বাচন হওয়ায় ইউরোপ-আমেরিকা থেকে অনেক প্রবাসী দেশে এসেছেন। তখনই ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন এবার ঈদে ভালো ব্যবসা হবে। কারণ নির্বাচনের পরই রোজা শুরু হওয়ায় এই প্রবাসীরা দেশে ঈদ করবেন। আমাদের ধারণা ঠিক হয়েছে। ফলে এবারের ঈদে ক্রেতা সমাগম অনেক বেশি।
তিনি বলেন, তবে এবার আমরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে। কারণ সিলেটের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী। এবার বেশিরভাগ ক্রেতার বাজেট সীমিত দেখা গেছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন ছিনতাই রাহাজানি রোধে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।




