টাঙ্গুয়ার হাওরে স্রোতের মুখে কাজ না করে ফিরে গেলেন কৃষকরা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মার্চ ২০২৬, ৭:১১:১১ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধের যে স্থান দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ও প্রবল স্রোত। যার কারণে বাঁধের কাজ না করেই ফিরতে হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। টাঙ্গুয়ার হাওরপারের গ্রাম মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা মঙ্গলবার নজরখালি বাঁধ এলাকাতে বাঁশ, বাঁশের চাটাই ও বস্তা নিয়ে এসেছিলেন। তবে বাঁধের নির্মাণকাজের বাধা হয়ে দাঁড়ায় পানির প্রবল স্রোত। এ অবস্থায় কৃষকরা বিফল হয়ে বাঁধের যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে যান।
উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের রংচি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, সরকার কৃষকদের হাওরের ফসল রক্ষার স্বার্থে প্রতিটি উপজেলাতে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। অথচ নজরখালি বাঁধে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেই দুই উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২০ হাজার একর জমির ধান রক্ষা পেত।
জানা যায়, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টির কারণে বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার ভোর থেকে নজরখালি বাঁধ দিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে পানি ঢুকতে থাকে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকাভুক্ত না হওয়ায় এবারও টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকেছে। বরাবরের মতো বাঁধটির কাজে কৃষকরা নিজেরাই মাঠে নেমে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবারও। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাত।
উপজেলার ৮২ গ্রামের কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে নজরখালী বাঁধের কাজ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবারও। টাঙ্গুয়ার পারের উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো অংশ এবং তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের একাংশ রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। সেখানে এ চারটি ইউনিয়নের চাষাবাদের জমি প্রায় ২০ হাজার একর। নজরখালী বাঁধের আওতায় রয়েছে সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওর, উলানের বিল, কালিনগর, সালদিগা ও ছড়া হাওর।
নজরখালী বাঁধের ভেতরে চারটি ইউনিয়নের কৃষকরা অনেক বছর ধরেই সরকারের কাছে দাবি তুলে আসছিলেন নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত করার জন্য। সরকারিভাবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে নিজেরাই সেখানে প্রতি বছর কাজ করে থাকেন। এ কাজের অর্থের জোগান নিশ্চিত করা হয় কৃষকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে। এ বছরও কৃষকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে টাকা উঠিয়ে বাঁশ, চাটাই ও বস্তা সংগ্রহ করে বাঁধ নির্মাণকাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
হুকুমপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো অংশের জমি রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। টাঙ্গুয়ার হাওরটি রামসার সাইট হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নজরখালী বাঁধে কাজ করে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ অবস্থায় কৃষকের জমির ফসল বাঁচাতে প্রতি বছর যুদ্ধ চলে। জীবিকার তাগিদে তারাই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ করেন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে এ বাঁধের কাজ করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে অনেক আবেদন-নিবেদন করেও নজরখালী বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আনা যায়নি।
নজরখালী বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম জানান, উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা কৃষকরা মঙ্গলবার নজরখালি বাঁধ এলাকাতে বাঁশ, বাঁশের চাটাই ও বস্তা নিয়ে এসেছিলেন কাজ করতে। কিন্তু বাঁধ এলাকায় পানির প্রবল স্রোত।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত না থাকায় তাদের পক্ষে এ বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।




