টানা বৃষ্টিতে বোরো চাষিদের আশার আলো
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের মধ্যেই সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত বোরো ধান চাষিদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সেচনির্ভর এই মৌসুমে ডিজেল সংকটের কারণে যেখানে কৃষকরা জমিতে পানি দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, সেখানে বৃষ্টির পানি সাময়িকভাবে সেই চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে সরকার জ্বালানি ক্রয়ে সীমা নির্ধারণ করলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। তবে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার কারণে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এতে ডিজেলচালিত সেচ পাম্প চালাতে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি বেড়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কৃষক জামাল মিয়া বলেন, চার একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন তিনি। “ডিজেল সংকটের কারণে কয়েকদিন সেচ দিতে সমস্যা হচ্ছিল, তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৫৩ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ৪৮ মিলিমিটার, রংপুরে ৪০ মিলিমিটার এবং মানিকগঞ্জে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃষ্টিপাত বোরো ধানের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জানান, শিলাবৃষ্টি না হলে এ ধরনের বৃষ্টি ফসলের বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেচের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৌসুমি সবজিতেও বৃষ্টির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টমেটো, বেগুন ও শিমসহ অধিকাংশ সবজি বর্তমানে ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে নিচু জমি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল এলাকায় আলু কিছুটা ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে এই বৃষ্টিপাত বোরো চাষের জন্য উপকারী হলেও এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব মূল্যায়নে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
এদিকে কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি রেশনিং সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হলেও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। কারণ দেশের বোরো চাষের একটি বড় অংশ এখনো ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।



