সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর, ৫৪ ধারায় আসামীকে চালান
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩:৫১ অপরাহ্ন
সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার এবং লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। যার কারণে এ ঘটনায় আটক বাবুল মিয়াকে আপাতত ৫৪ ধারায় আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবারের চাঞ্চল্যকর এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার লাশ স্বজনদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত দম্পতির দুই সন্তান ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ গ্রহণ করেছেন। আর ওই গৃহপরিচারিকার লাশও তার পরিবার গ্রহণ করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে (৪০) নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ভিকটিম পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত লিখিত এজাহার জমা দেওয়া হয়নি। মামলা দায়ের হলে আটক বাবুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আপাতত তাকে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহতদের শরীরে সুরতহাল ও আঘাতের চিহ্নের বিষয়ে তিনি জানান, প্রত্যেকের শরীরেই একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নিহত গৃহপরিচারিকার শরীরে বুক ও গলায় বেশ কয়েকটি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এর আগে বুধবার সকালে সিলেট নগরীর রায়নগরের একটি বাসায় বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী ও কাজের মেয়ের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনা বেগম (২৫)। আব্দুস সাত্তার রায়নগরের নিজের বাসায়ই থাকতেন।
পরে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক রং মিস্ত্রিকে আটক করে পুলিশ। পরে সে প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। কাজের মেয়ের সাথে তর্কাতর্কির জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায় সে। ঘটনার ৬ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে আটক করে ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।



