এসএসসিতে সিলেট বোর্ডে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ-৫
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১১:৪৪ অপরাহ্ন
আনাস হাবিব কলিন্স
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে এবার পাসের হারে ধস নেমেছে। তবে, বেড়েছে জিপিএ-৫। এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গড়ে ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। ফলাফলের এই বিপর্যয় এর আগে ২০০৮ সালে দেখা যায়। সে বছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় এসএসসি’র এই ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ড সচিব চৌধুরী মামুন আকবর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন, কলেজ পরিদর্শক শেখ মো. নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক, উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হাবিবা বাছিতসহ বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ফলাফল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। গত বছরের চেয়ে এবার ২২২টি জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে ইংরেজি ও অঙ্কে ফেল করাকে দেখছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। এ ছাড়া, এই দু’টি বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। দক্ষ শিক্ষক এবং শিক্ষকদের অপর্যাপ্ততা কাটিয়ে ওঠা গেলে ফলাফল ভালো করা সম্ভব বলে মনে করছেন বোর্ড সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
বোর্ডের তথ্যমতে, এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২৫ হাজার ১৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ হাজার ৯৮ জন অংশ নিয়ে পাস করে ২০ হাজার ১৫৯ জন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ। এই বিভাগ থেকে ৩ হাজার ৬০৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৬৮৪ এবং মেয়ে ১ হাজার ৯২৪ জন।
মানবিক বিভাগে ৫৮ হাজার ২৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫৭ হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ২৭ হাজার ৮১৫ জন। আর ফেল করেছে সর্বাধিক ২৯ হাজার ৯৪৫ জন। মানবিকে পাসের থেকে ফেল করার হার বেশি। মানবিকে গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং গড় ফেলের হার ৫১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মানবিক থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে ২৪ এবং মেয়ে ৯৬ জন।
ব্যবসায় শিক্ষায় ৬ হাজার ২৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ হাজার ২২১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৯৮৩ জন। আর ফেল করেছে ২ হাজার ২৩৮ জন। এই বিভাগে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় ১০৮ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে ৩৭ এবং মেয়ে ৭১ জন রয়েছে।
এবারও এগিয়ে মেয়েরা : সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজার ৬০৭ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৩৮ জন অংশ নিয়ে পাস করে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন এবং ফেল করেছে ১৫ হাজার ৫৪৯ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ। অপর দিকে ৫৪ হাজার ৭৯ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ হাজার ৬৪১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩২ হাজার ৬৮ জন। আর ফেল করেছে ২১ হাজার ৫৭৩ জন। মেয়েদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ৩ হাজার ৮৩৬টি জিপিএ-৫ এর মধ্যে ছেলেরা পেয়েছে ১ হাজার ৭৪৫ জন এবং মেয়েরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯১ জন।
জেলাওয়ারী তথ্য : সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চার জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে আছে সিলেট এবং পিছিয়ে রয়েছে হবিগঞ্জ।
সিলেটে ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২২ হাজার ১৬০ জন। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৩ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
মৌলভীবাজারে ১৯ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১১ হাজার ১০৩ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৫ জন। এই জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ।
সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার ২৮৯ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৯ হাজার ৯৯৯ জন। এই জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৩ জন। সুনামগঞ্জ জেলায় পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৮ হাজার ৬৯৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন। হবিগঞ্জে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।
শতভাগ পাস : সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২টি। গত বছর শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান ছিল ৭টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৯টি। তবে শতভাগ ফেল কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
অন্যান্য গ্রেডে পাস করেছে যারা : সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষায় এ গ্রেড পেয়ে পাস করেছে ১১ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে ছেলে ৪ হাজার ১১ জন এবং মেয়ে ৭ হাজার ২৭৮ জন। এ মায়নাস পেয়েছে ১০ হাজার ৬ জন। তার মধ্যে ছেলে ৩ হাজার ৪৬৪ জন ও মেয়ে ৬ হাজার ৫৪২ জন। বি- গ্রেড পাওয়া ১১ হাজার ৯৬৭ জনের মধ্যে ছেলে ৪ হাজার ২০১ জন ও মেয়ে ৭ হাজার ৭৬৬ জন। সি-গ্রেড পাওয়া ১৪ হাজার ৪৯ জনের মধ্যে ছেলে ৬ হাজার ১০ জন ও মেয়ে ৮ হাজার ৩৯ জন। সর্বশেষ ডি-গ্রেড পাওয়া ৮১০ জনের মধ্যে ছেলে ৪৫৮ জন এবং মেয়ে ৩৫২ জন।




