কোম্পানীগঞ্জে ইজারাকালের পাথর অবমুক্তির দাবি, নিলাম স্থগিত চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১:০৪ অপরাহ্ন
কোম্পানীগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা : একসময় পাথর কোয়ারি ছিল সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমা এলাকা। তখন লিজের মাধ্যমে ওই এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন হতো। তারপরে আজ থেকে ৬ বছর পূর্বে হঠাৎ করেই সরকার পাথর উত্তোলনের ওপর কড়াকড়া আরোপ করে। তখন উত্তোলন করা পাথরগুলো আর বিক্রি করতে পারেন নি স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে থাকা এই পাথরগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান সহ উপজেলা প্রশাসন। গত ১৩ জুলাই যৌথভাবে মোবাইল কোর্টের এই পরিচালানা করে উৎমা এলাকার ৯৪ হাজার ৩৯০ ফুট পাথর জব্দ করেন। আর সেটি আজ সোমবার ১০ আগস্ট সেই পাথর নিলামের মাধ্যমে বিক্রয়ের নোটিশ প্রদান করেছেন।
পরে স্থানীয় পাথর মালিকেরা লিজের মাধ্যমে উত্তোলিত এই পাথর অবমুক্ত করে স্থানান্তরের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এই আবেদন করেছেন। নিলামের মাধ্যমে এই পাথর বিক্রি না করতে ৯ আগস্ট এলাকাবাসী মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেন।
আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, আমরা পাথর মহাল থেকে বিগত ১৪২৬-১৪২৭ বাংলা সনে বৈধ ইজারাকালীন সময়ে ইজারাদারকে রয্যেলিটি প্রদানের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন করে বেশি লাভের আশায় পরবর্তীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের বনপুর, গুচ্ছগ্রাম ও মাঝেরগাঁও এলাকায় স্তূপ আকারে পাথর সংরক্ষণ করি। পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতির কারণ দেখিয়ে প্রশাসন কর্তৃক পাথর মহাল ইজারা স্থগিত করায় এবং পরবর্তীতে অদ্যাবধি আর পাথর মহাল ইজারা না দেয়ায় আমাদের মালিকাধীন স্তূপাকৃত পাথর পরিবহনে স্থানীয় প্রশাসন বাঁধা দেয়াতে আমরা এই পাথর সমূহ দীর্ঘদিন যাবত বিক্রি বা স্থানান্তর করতে পারছিনা। বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংগৃহিত পাথর বিক্রি বা স্থানান্তর করতে না পারায় আমরা বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। এরই মধ্যে বিগত ১৩ জুলাই খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান সহ উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালানার মাধ্যমে আমাদের প্রায় ৯৪,৩৯০ ফুট পাথর জব্দ করেন। যাহা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিলামের মাধ্যমে বিক্রয়ের নোটিশ প্রদান করেছেন। আমাদের এই পাথর নিলামে বিক্রি করলে আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীগণ একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাবো।
তারা আরো উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বৈধ ইজারা মেয়াদে বৈধ রয্যেলিটি প্রদানের মাধ্যমে উত্তোলিত স্তূপাকারে সংরক্ষিত পাথর সমূহ নিলামে বিক্রি না করে জব্দকৃত পাথর অবমুক্ত করে তাদের জিম্মায় ফেরত প্রদান ও স্থানান্তর আবেদন করেন। এছাড়া এই পাথর নিলামে বিক্রি না করতে গতকাল রোববার এলাকাবাসী এক প্রতিবাদ সভা করেন।



