মুক্ত হলেও ক্যাম্পাস ছাড়তে পারবেন না শিক্ষকরা
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শাট ডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২:০৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দালন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়েছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিকে, প্রায় ৩৫ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর সোমবার রাত ১০ টার দিকে মুক্তি পেলেও ক্যাম্পাস ছাড়তে পারছেন না কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। কলেজের মূল ফটকে তালা থাকায় বের হতে পারছেন না তারা। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারবেন না।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন থেকে মুক্ত করে পুরো কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের (মাউশি) অধীনে নেওয়ার দাবিতে গত রোববার থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওইদিন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। সোমবার সিসিক প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনার পর রাতে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মুক্ত করে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে মুক্ত হলেও তারা এখনো ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না। প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে রাখায় ক্যাম্পাসে আটকা অবস্থায় আছেন তারা।
দুপুুরে ক্যাম্পেসে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ই ই ই বিভাগের তানভীর আহমদ এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফাহাদ ফয়সাল। তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কারণে আমাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা, একাডেমিক পরিবেশ ও পেশাগত উন্নয়ন নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান দ্বৈত প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চলে আসা বৈষম্যের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহে গুণগত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি মানসম্মত, আধুনিক ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার প্রত্যাশা করে আসছি। এ লক্ষ্যে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করাই আমাদের একমাত্র দাবি।
এসময় তারা কয়েকটি দাবী জানান- সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে এবং অনতিবিলম্বে এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চার বছরের উচ্চতর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা, আন্তর্জাতিক মান ও পেশাগত স্বীকৃতি রক্ষার্থে আমরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে আর এক মুহূর্তও থাকতে রাজি নই।
আর তারা আলটিমেটাম দিয়ে জানান- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত ফলাফল ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা না হলে, সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখবে। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রকার আদেশ, প্রজ্ঞাপন বা রদবদল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, শিক্ষার্থীরা ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে তালা ঝুলিয়ে রাখায় কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারছেন না। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনটি বিভাগে পাঁচটি ব্যাচে কলেজটিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।



